জমা করার তিন মাসের মধ্যে উহান সংক্রান্ত করোনা-তথ্য প্রত্যাহার, কিন্তু কেন?

covid.jpg

Onlooker desk: ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উহান। এ বার সামনে এল উহানের নমুনা প্রত্যাহারের ঘটনা।
চিনা গবেষকদের অনুরোধেই মার্কিন তথ্যভাণ্ডারে প্রাথমিক ভাবে রাখা হয়েছিল ওই নমুনা। চিনে করোনাভাইরাসের একেবারে গোড়ার দিকের নমুনা সেগুলি। তারই জেনেটিক মেক আপের বিস্তারিত তথ্য মার্কিন ডেটাবেস থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকা। এর জেরে অতিমারীর উৎস ঘিরে গোপনীয়তা নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা।
২০২০-র মার্চে মার্কিন সিকোয়েন্স রিড আর্কাইভে প্রথম জমা পড়ে ওই তথ্য। যে গবেষক তা জমা দেন, তিনিই তা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। তা-ও মাসতিনেকের মধ্যে। গত বছর জুনে। বুধবার বিবৃতি জারি করে এ কথা জানিয়েছে ইউ এস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেল্থ।
কোভিড অতিমারীর প্রথম কেসের সন্ধান উহানেই মিলেছিল। যে তথ্য সরানোর কথা সামনে এসেছে, সেগুলিও উহানের।
কিন্তু কোন যুক্তিতে নমুনা প্রত্যাহার করা হয়? সেই সময় জানানো হয়েছিল, সিকোয়েন্সের তথ্য আপডেট করা হয়েছে। এ বার তা অন্য একটি ডেটাবেসে জমা দেওয়া হবে। গবেষকের দাবি ছিল, নমুনা সরানো না-হলে ভাইরাসের ভার্শন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
তবে বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানালেও কোনও অনুমানের পথে যেতে চাইছে না ইউ এস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেল্থ। তারা জানিয়েছে, যে গবেষক তথ্য জমা দিচ্ছেন, তা প্রত্যাহারের অধিকার তাঁর রয়েছে। তিনি প্রত্যাহারের অনুরোধও জানাতে পারেন। তাঁর জানানো উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কিছু অনুমান করা যায় না।
কিন্তু এতে বিতর্ক থামেনি। এর পাশাপাশি অতিমারীর সঙ্গে উহান-যোগের আরও কিছু তথ্য আড়াল করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। মার্কিন ভাইরোলজিস্ট জেস ব্লুম এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই সপ্তাহের গোড়ায় তিনিই প্রথম তথ্য সরানোর বিষয়টি প্রকাশ করে সামনে আনেন। তবে পরবর্তীতে ওই জেনেটিক মেক আপ তথ্য পুনরুদ্ধার করেন ব্লুম। সেখানে অবশ্য ভাইরাসের উৎসস্থল ও পদ্ধতির নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
উহানের গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে চিন ক্রমাগত তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে গোটা বিশ্বের রাজনীতিক ও বিজ্ঞানীরা ক্রমশ ধৈর্যচ্যুত হচ্ছেন।
এ বছরের গোড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল চিনে পরিদর্শনে যায়। তারা জানিয়েছিল, গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়ায়নি। কিন্তু তড়িঘড়ি এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ায় হু-এর বিরুদ্ধে সমালোচনা দেখা দেয়। কারণ অপরিশোধিত তথ্য ও তার সিদ্ধান্তের ডেটাবেস হু-এর সামনে আনেনি চিন। তারপরেও তারা জানায়, পশুর থেকে ছড়িয়েছে ভাইরাস। যার জেরেই সমালোচনা।
উহান গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, এ কথা মানতে একেবারেই নারাজ চিন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে ফের এ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top