করোনার পর ফের এক মারণ ভাইরাসের হদিস! মৃত্যুর আশঙ্কা ৮৮% পর্যন্ত

IMG-20210810-WA0004.jpg

Onlooker desk: করোনার আতঙ্কের মধ্যেই নতুন ত্রাসের কথা জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু (WHO)। সোমবার হু (WHO) জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকায় প্রথম মারণ মারবার্গ ভাইরাসের (Marburg virus) খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এক ব্যক্তির দেহে মারবার্গ ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে গিনি। এই ভাইরাসের সঙ্গে ইবোলার যোগ রয়েছে। এবং কোভিড-১৯ এর মতোই তা পশুর থেকে মানব শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু মারবার্গ ভাইরাসের কারণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি — ৮৮ শতাংশ। গত ২ অগস্ট দক্ষিণ গেকেডু প্রিফেকচারে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁর দেহের নমুনা পরীক্ষা করে খোঁজ মেলে মারবার্গ ভাইরাসের (Marburg virus)।
হু-এর আফ্রিকা অঞ্চলের অধিকর্তা ডঃ মাতশিদিসো মোয়েতি বলেন, ‘মারবার্গ ভাইরাসের (Marburg virus) ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। পথেই আটকাতে হবে তাকে।’
গিনির দ্বিতীয় ইবোলা সংক্রমণে অবশেষে দাঁড়ি পড়েছে বলে মাত্র দু’মাস আগে জানিয়েছে হু (WHO)। গত বছর দ্বিতীয় বার ইবোলার সংক্রমণ দেখা দেয় গিনিতে। তাতে মৃত্যু হয় ১২ জনের।
তবে মারবার্গ ভাইরাস (Marburg virus) নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে খুব বেশি চিন্তার কারণ এখনই নেই বলে হু জানিয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক ভাবে তা যথেষ্ট উদ্বেগের।
মোয়েতি বলেন, ‘ইবোলা একই হারে ছড়ায়। স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পূর্ব অভিজ্ঞতার নিরিখে গিনিকে প্রস্তুত রাখছি আমরা।’
সাধারণত গুহা বা খনি অঞ্চল থেকে মারবার্গ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। এই এলাকাগুলি রুজেটাস বাদুড়ের বাসস্থান। মানুষের শরীরে একবার থাবা বসালে সংক্রামিত ব্যক্তির দেহরসের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। বা সংক্রামিত কোনও বস্তু থেকে।
যে ব্যক্তি মারবার্গ ভাইরাসে মারা গিয়েছেন, তিনি সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ার সীমানায় একটি গ্রামে থাকতেন। তাঁর শরীরে উপসর্গ দেখা দেয় গত ২৫ জুলাই। এই অসুখে উপসর্গের দেখা মেলে আচমকা। প্রবল জ্বর, সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা ও অস্বস্তি। এই হল উপসর্গ। মৃত্যুর হার ২৪ থেকে ৮৮ শতাংশের মধ্যে থাকে। ভাইরাসের স্ট্রেন ও চিকিৎসা কেমন হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করে মৃত্যুর আশঙ্কা।
মারবার্গ ভাইরাসের (Marburg virus) কোনও টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ইন্ট্রাভেনাস রিহাইড্রেশন বা নির্দিষ্ট উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা হলে প্রাণরক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।
জ্বর, মাথাব্যথা দেখা দেওয়ায় প্রাথমিক ভাবে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা হয় ওই ব্যক্তির। ম্যালেরিয়ার টেস্ট করা হয়। এরপরে বাড়িতেই সকলের মাঝে মারা যান তিনি। ময়না-তদন্তের রিপোর্টে ইবোলা নেগেটিভ হলেও মারবার্গের খোঁজ মেলে। ওই ব্যক্তির পরিবারের তিন জন এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে হাই-রিস্ক ক্লোজ কনট্যাক্ট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হু (WHO)-এর বিশেষজ্ঞদল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সীমানায় নজর রাখা হচ্ছে। যত দ্রুত রোগের হদিস মিলবে, সেরে ওঠার সম্ভাবনাও তত বেশি।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, আঙ্গোলা, কেনিয়া, উগান্ডা এবং কঙ্গোয় মারবার্গের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিম আফ্রিকায় এই প্রথম।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top