কান্দাহারও দখলে, অবিবাহিত মেয়েদের বিয়ে করতে বলপ্রয়োগ তালিবানের। উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জ

Taliban1.jpg

Onlooker desk: গজনী, হেরাটের পর এ বার কান্দাহারও দখল করে নিল তালিবান (Taliban)। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর দখল হয়ে যাওয়ার কথা শুক্রবার জানান আধিকারিকরা। দক্ষিণের লস্কর গাহ এবং উত্তর-পশ্চিমের কালা-ই-ন শহরও দখল করে নিয়েছে তালিবান।
বৃহস্পতিবারই দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাট দখলের কথা ঘোষণা করে তালিবান (Taliban)। শহরের কোণে কোণে তাদের পতাকা উত্তোলিত করা হয়েছে বলে জানান এক বাসিন্দা।
কান্দাহার তালিবানের (Taliban) আঁতুড়ঘর বলা যায়। সিভিল ওয়ারের সময়ে ১৯৯৪-এ এই প্রদেশে মূলবাসী পাশতুন যোদ্ধাদের উত্থান। পরের দু’বছর যারা গোটা দেশ কব্জা করে ফেলে। সংবাদমাধ্যমে এক আফগান আধিকারিক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতভর প্রবল সংঘর্ষের পর কান্দাহার দখল করে নিয়েছে তালিবান(Taliban)।’
দীর্ঘ দু’দশকের মার্কিন সেনার অবস্থানে কান্দাহার এয়ারপোর্ট ছিল তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাঁটি। সেই বিমানবন্দর অবশ্য সরকারি বাহিনীর দখলে রয়েছে এখনও।
দক্ষিণের আফিম-উৎপাদক প্রদেশ হেলমন্দের রাজধানী শহর লস্কর গাহ। সেখানে তালিবানকে (Taliban) রুখতে ব্রিটিশ, মার্কিন ও অন্য বিদেশি শক্তি দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সরকারি বাহিনী ও আধিকারিকরা হেলিকপ্টারে করে লস্কর গাহ ছাড়েন। ২০০ সৈন্য আদিবাসী মোড়লদের হস্তক্ষেপে তালিবানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
তালিবানের দাবি, তাদের একের পর এক শহর দখল থেকে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে আফগান নাগরিকরা এই গোষ্ঠীকেই চাইছেন। সংবাদমাধ্যমে এমন কথাই জানানো হয়েছে তালিবানের (Taliban) তরফে।
২০০১ এর ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর আমেরিকা তালিবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। দু’দশক আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে তালিবানের সঙ্গে লড়াই চালায় তারা। সম্প্রতি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে আমেরিকার জো বাইডেন প্রশাসন। এবং বাহিনী প্রত্যাহৃত হয়। তারপরে তালিবানের আগ্রাসন বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে আফগানিস্তান জুড়ে।
এ সপ্তাহে বাইডেন জানিয়েছেন, বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। কারণ এই দু’দশকে ওয়াশিংটন ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। বহু সৈন্য মারা গিয়েছেন।
কিন্তু আমেরিকাতেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সেনেট রিপাবলিকান নেতা মিশ ম্যাককনেল জানান, এতে তালিবানের আগ্রাসন আরও বাড়ার আশঙ্কা। ২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বরের সেই সন্ত্রাস হানার ২০ তম বছরে তারা কাবুলে মার্কিন এম্ব্যাসি জ্বালিয়ে দিয়ে উদযাপন করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মিশ।
তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে বৃহস্পতিবারই কথা বলেন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং ডিফেন্স সেক্রেটারি লয়েড অস্টিন। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখতে আমেরিকা যে বদ্ধপরিকর, সে কথা জানানো হয়। রাজনৈতিক সমাধানের পথও খুঁজতে চায় মার্কিন প্রশাসন।
এ দিকে, মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। ইংল্যান্ড আফগানিস্তান থেকে তাদের নাগরিকদের বের করার জন্য ৬০০ বাহিনী পাঠাচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যেই দূতাবাসের কর্মীদের সরানোর ব্যবস্থা করেছে। অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটছে।
এ দিকে, দেশে ক্রমশ পায়ের তলার মাটি শক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে তালিবান নানা রকম অত্যাচার শুরু করেছে বলে খবর। হত্যালীলা, লুটপাট তো আছেই। সেই সঙ্গে মহিলাদেরও নানা ভাবে নির্যাতন করছে তারা। তালিবান সন্ত্রাসবাদীদের বিয়ে করার জন্য বিভিন্ন প্রদেশের মহিলাদের উপরে বল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে খবর। আটক সেনাদের নিধন এবং প্ররোচনা ছাড়াই নাগরিকদের উপরে নির্যাতন চালাচ্ছে তারা।
শেষ আশ্রয় হিসাবে বহু আফগান নাগরিক কাবুলে ভিড় জমাচ্ছেন। যাঁরা সে সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁদের থাকতে হচ্ছে তালিবান অধ্যুষিত এলাকায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, অবিবাহিত মেয়েদের জোর করে সন্ত্রাসবাদীদের স্ত্রী বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তালিবান। অতীতেও এই পথ অনুসরণ করেছিল তারা। বিবাহের নামে আদতে যৌনদাসী বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে আফগান নারীদের।
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। একবার তারা কাবুলে পৌঁছে গেলে নাগরিকদের জন্য তা বিপর্যয়ের সামিল হবে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জের বক্তব্য।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top