সহকর্মীকে গভীর চুম্বন! বাধ্য হয়ে ইস্তফা দিলেন স্বাস্থ্যসচিব

IMG-20210627-WA0002.jpg

Onlooker desk: বিশ্বস্ত সঙ্গীকে জাপ্টে ধরে চুমু খাওয়ায় ইস্তফাই দিতে হলো ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানকককে। কারণ এতে তিনি কোভিড প্রোটোকল ভেঙেছেন। স্বাস্থ্যসচিব নিজেই করোনা-বিধি ভাঙলে সাধারণ মানুষ কী করবেন! তবে প্রকাশ্যে নয়, গোপনেই গভীর ভাবে চুম্বন করেছিলেন দু’জনে। যা ধরা পড়ে যায় সিকিউরিটি ক্যামেরায়।
খবরটি প্রথম প্রকাসিত হয় ‘দ্য সান’ পত্রিকায়। সেখানে গভীর চুম্বনের ছবি ছাপা হয়। গত ৬ মে ওই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন হ্যানকক। বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিরোধী লেবার পার্টি। সে মহিলাকে ছবিতে দেখা গিয়েছে, তিনি হলেন লবিস্ট জিনা কলোড্যাঞ্জেলো। হ্যানককের শীর্ষ উপদেষ্টা গোষ্ঠীতে কী ভাবে তিনি নিয়োগ পেলেন, সে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
প্রসঙ্গত হ্যানকক ও জিনা, দু’জনেই বিবাহিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তাঁদের আলাপ। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ ইংল্যান্ডের নতুন স্বাস্থ্যসচিব হয়েছেন।
বিতর্ক দেখা দিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন হ্যানকক। দেশজোড়া অতিমারী মোকাবিলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন হ্যানকক। বিশেষত ভ্যাকসিনেশনের ক্ষেত্রে। তাঁকেই লিখতে হয়েছে — নির্দেশিকা ভেঙে এত এত মানুষের আত্মত্যাগকে আমি ছোট করেছি। আমার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য করোনা-যুদ্ধ থেকে লক্ষ্য সরে যাক, সেটা আমি কখনই চাইব না।
বরিস জনসন জানান, হ্যানককের ইস্তফাপত্র পেয়ে তিনি মর্মাহত। এতদিন যে কাজ তিনি করেছেন, সে জন্য তাঁর গর্বিত হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর ডাউনিং স্ট্রিটের অফিস পরে জানায়, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ জাভিদের নিয়োগে সায় দিয়েছেন।
প্রথমে অবশ্য স্বাস্থ্যসচিবের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিরোধীরা তাতে সরব হয়। তারা বলে, বহু সাধারণ মানুষকে লকডাউনের বিধি ভাঙার জন্য ফাইন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তা না হলে সরকার দ্বিচারিতা করবে।
তবে হ্যানককের বিরুদ্ধে তলে তলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বরিসেরও। একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বাইরে আসে, যেখানে হ্যানককে বরিস ‘হোপলেস’ বলছেন। হ্যানকক অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
এর আগে শর্ত ভেঙে এক বন্ধুর সঙ্গে চুক্তি করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী, সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা বলার অভিযোগও ওঠে। তাঁর মন্ত্রকেরই একটি চুক্তি এমন একটি সংস্থা পায়, যার শেয়ার রয়েছে হ্যানককের নামে। এ নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল।
প্রকাশ্যে অবশ্য তাঁর প্রশংসাই করেছেন বরিস। তাঁর টিকাকরণ প্রকল্প ‘আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম বড় সাফল্য’ বলেও চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ২১ জুন ব্রিটেনে কড়াকড়ি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের প্রকোপে সামাজিক দূরত্ববিধির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top