মাজার-ই-শরিফের পর দখল জালালাবাদও, কাবুল ঘিরে ফেলেছে তালিবান

Taliban.jpg

Onlooker desk: দেশের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ২২টিই তাদের দখলে। শনিবার দখল হয়েছে মাজার-ই-শরিফ। রবিবার জালালাবাদ (Jalalabad)-সহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক শহর দখল করে নিল তালিবান (Taliban)। বাকি থাকা কাবুল কব্জায় আনা সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন অনেকে।
জালালাবাদের বাসিন্দা আহমেদ ওয়ালি বলেন, ‘রবিবার সকালে উঠে দেখি তালিবানের সাদা পতাকা উড়ছে শহরজুড়ে।’ তার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় জালালাবাদ দখলের কথা জানিয়েছে তালিবান।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারের সামনে বেশি পথ নেই। কাবুল ঘিরে ফেলেছে তালিবান। এই পরিস্থিতিতে হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, নয়তো আত্মসমর্পণ — এর মধ্যে যে কোনও একটি পথ ধরতে হবে সরকারকে।
শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে সেনা বাহিনীকে ঢেলে সাজার উপরে জোর দেন ঘানি। সঙ্কটের ‘রাজনৈতিক পথে মীমাংসা’র কথাও বলেন। কিন্তু মাজার-ই-শরিফের (Mazar-E-Sharif) পর জালালাবাদ — পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ শহর তালিবান দখল করে নেওয়ায় ঘানি ও তাঁর সরকার সঙ্কটে। কাবুল থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থান করছে তালিবান যোদ্ধারা।
শনিবার মাজার-ই-শরিফ দখল করতে বিশেষ সময় লাগেনি তালিবানের (Taliban)। শহরের বিখ্যাত নীল মসজিদের কাছে থাকেন আতিকুল্লা ঘেয়র। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘রাজপথে গাড়ি ও মোটরবাইকের বাহিনী ছোটাচ্ছে তালিবান। উল্লাসে বাতাসে গুলি ছুড়ছে।’
এই যুদ্ধে সরকারকে সহযোগিতা করেছিলেন আব্দুল রাশিদ দোস্তাম ও আট্টা মহম্মদ নুর। এখন মাজার-ই-শরিফ তালিবানের দখলে যাওয়ায় তাঁরা পালিয়ে গিয়েছেন ৩০ কিলোমিটার উত্তরে উজবেকিস্তানে।
পরে টুইটে নুর জানান, আফগান বাহিনী তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এবং তাঁরা ‘নিরাপদ স্থানে’ রয়েছেন। তিনি লেখেন — বহু না-বলা গল্প রয়েছে আমার ভাণ্ডারে। সময় এলে সব বলব।
এ দিকে তালিবান (Taliban) ক্রমশ কাবুল ঘিরে ফেলায় শহরের আতঙ্কিত বাসিন্দারা লম্বা লাইন দিচ্ছেন ব্যাঙ্কের বাইরে। যাঁর যা সঞ্চয়, সবটুকু তুলে নিতে চান তাঁরা। পরিস্থিতি এমনই যে কিছু কিছু ব্যাঙ্কের শাখায় নগদ ফুরিয়ে গিয়েছে।
কাবুলের পুল-ই-চরখি জেলের আশপাশের বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, জেলের ভিতর থেকে গুলিচালনার শব্দ পাওয়া গিয়েছে। বন্দিরাই পালানোর ছক কষে হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
এ দিকে, সংঘর্ষ থামিয়ে শান্তির পথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানাচ্ছেন ঘানি। তালিবান (Taliban)আগ্রাসনের পর প্রথম ভাষণে আফগানিস্তানের পতাকার সামনে বসে তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের উপরে চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে আমি আর প্রাণহানি হতে দেব না।’
কিন্তু তাঁর আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না আফগান নাগরিকরা। এতদিন নানা প্রান্তের প্রদেশ ও শহর তালিবান (Taliban) দখলে যাওয়ায় দলে দলে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন কাবুলে। এখন কাবুলও ঘিরে ফেলেছে জঙ্গিরা। সেখানকার বাসিন্দারা ভীত, আতঙ্কিত।
এর মধ্যে কাবুল থেকে দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অতিরিক্ত ১০০০ মার্কিন বাহিনী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের সাহায্যে কাবুলের দূতাবাস থেকে কর্মীদের বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিরাপদে সরানো হচ্ছে মার্কিন বাহিনীর জন্য কাজ করা হাজার হাজার আফগানকেও। যাঁরা এখন তালিবানের টার্গেট তালিকার উপর দিকে রয়েছেন।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top