তালিব-নেতা আখুন্দজাদা পাক-সেনার কব্জায়, খবর মিলল গোপন সূত্রে

Haibatullah-Akhundzada.jpg

Onlooker desk: তালিবানের সুপ্রিম লিডার হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা (Haibatullah Akhundzada) কোথায় আছেন?
এ প্রশ্নের উত্তর পেতে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য এবং তালিবানের অভ্যন্তরীণ কথোপকথনে নজরদারি চালায় ভারত। যার সূত্রে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তা হল, আখুন্দজাদা (Haibatullah Akhundzada) সম্ভবত পাকিস্তান সেনার কব্জায় রয়েছেন। গত ছ’মাসে তাঁকে দেখেননি তালিবানের শীর্ষ নেতারাও। গত মে মাসে আখুন্দজাদার (Haibatullah Akhundzada) শেষ বিবৃতি সামনে এসেছিল। সে সময়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে পাকিস্তান কী ভূমিকা নেয়, তা দেখতে আগ্রহী ভারত।
২০১৬-র মে মাসে তালিবানের প্রধান হিসাবে হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে (Haibatullah Akhundzada) নিয়োগ করা হয়। তাঁর আগের নেতা আখতার মনসুর মার্কিন ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান। আখুন্দজাদা ছিলেন তাঁর অন্যতম সহকারী। পাকিস্তানে একটি বৈঠকে পদোন্নতি ঘটে তাঁর।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বছর ৫০-এর আখুন্দজাদা একজন আইন বিশেষজ্ঞ। ইসলাম ব্যাখ্যা করে আরও চরমপন্থী ভাবধারাকে কার্যকর করার ‘কৃতিত্ব’ তাঁর। ২০১৬-য় আল কায়দার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরি তাঁকে ‘এমির আল মুমিমিন’ বা আস্তিকের নেতা খেতাব দেন।
তালিবানের সাতজন নেতা নতুন আফগান সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আখুন্দজাদা তাঁদের একজন। ইতিমধ্যে লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদ তালিবানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে ভারতের কাছে খবর।
বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তালিবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর এই প্রথম আশঙ্কার কথা শোনা যায় তাঁর গলায়।
কোনও দেশের নাম না করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আফগানিস্তানে হোক বা ভারতের বিরুদ্ধে, লস্কর-জৈশের মতো গোষ্ঠীকে কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়।’ অনেকেরই মতে, তিনি পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ‘যাদের হাতে রক্ত লেগে’, তাদের ‘রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা’ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে তালিবান নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা কী হবে, সে প্রশ্নের উত্তর দেননি বিদেশমন্ত্রী।
তালিবানের রাজনৈতিক দপ্তর থেকে এ সপ্তাহের গোড়াতেই ভারতীয় কূটনীতিকদের না-সরানোর আবেদন জানিয়ে বার্তা আসে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা হিসাবেই দেখা হচ্ছে মেসেজগুলিকে। সেখানে বলা হয়, লস্কর বা জৈশের মতো কোনও গোষ্ঠী ভারতীয় দূতাবাস কিংবা তার কর্মচারীদের উপরে হামলা চালাবে না।
ভারত অবশ্য এ সব বার্তায় কর্ণপাত করেনি। দূতাবাসের কর্মীদের আফগানিস্তান থেকে বের করে এনেছে তারা। কারণ, এই গোষ্ঠীগুলি হামলা চালাতে পারে বলে খবর ছিল দেশের কাছে।
কূটনৈতিক সব কর্মীকে আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনেছে ভারত। তবে এখনও কাবুলিওয়ালার দেশের নানা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন হাজার খানেকেরও বেশি ভারতীয়। তাঁদের খুঁজে বের করে ফেরানো একটা ‘চ্যালেঞ্জ’। কারণ সকলেই নিজেদের নাম দূতাবাসে নথিভুক্ত করাননি।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top