পছন্দ নয় খাবার। মহিলাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে দিল তালিবান

Polish_20210821_174522867.jpg

Onlooker desk: ‘ভালো’ হওয়া কি অত সোজা? তালিবান বারবার দাবি করছে, তারা মহিলাদের অধিকার খর্ব করবে না। মহিলারা কাজ করতে পারবেন, পড়াশোনার সুযোগও দেওয়া হবে। কিন্তু তালিবান রয়েছে তালিবানেই। মারধর, হত্যা, জীবন্ত পুড়িয়ে খুন — কিছুই বাদ যাচ্ছে না।

আফগানিস্তানের প্রাক্তন বিচারক নাজলা আয়ুবি (Najla Ayoubi) একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশের বহু মহিলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। যার সূত্রে মহিলাদের সঙ্গে নানা দুর্ব্যবহার ও অবিচারের কথা উঠে আসছে।
আয়ুবি (Najla Ayoubi) জানান, তালিবান যোদ্ধাদের জন্য এক মহিলাকে রান্না করে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর বানানো খাবার তালিবানের পছন্দ হয়নি। সে কারণে ওই মহিলাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে তারা। ঘটনাটি উত্তর আফগানিস্তানের।
বিচারক আয়ুবির কথায়, ‘ওরা লোকজনকে খাবার দেওয়ার জন্য, খাবার রান্নার করে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে। তা ছাড়া, বহু তরুণীকে কফিনে পুরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে যৌনদাসী হিসাবে ব্যবহারের জন্য পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।’ তালিবানের হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে আমেরিকায় পালিয়েছিলেন নাজলা।
তাঁর কথায়, ‘পরিবারের ছোট ছোট মেয়েদের তালিবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। এই সব দেখার পর মহিলাদের অধিকার নিয়ে ওরা যে সব কথা বলছে, তার সারবত্তা কী, সেটাই ভাবছি।’
বিচারক নাজলা (Najla Ayoubi) বর্তমানে মহিলাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অবসানের লক্ষ্যে কর্মরত ‘এভরি উওম্যান ট্রিটি’র অন্যতম প্রধান। আয়ুবি (Najla Ayoubi) বলেন, ‘তালিবান জমানায় জীবনটা একটা দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছিল। সমাজের ক্ষমতাশালীদের একজন ছিলাম। সেখান থেকে হঠাৎ একজন কিছু না হয়ে গেলাম! শুধুমাত্র আমি মহিলা বলে প্রতিবেশীর চার বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ার মুদির দোকানে যেতে হত।’
তালিবান যতই বলুক যে তারা বদলে গিয়েছে, সে কথায় বিশ্বাস করছেন না প্রায় কেউ। বিশেষত মহিলাদের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, এ কথা মানতে কার্যত কেউ রাজি নন।
গত রবিবারই একাধিক সংবাদমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে মেয়েদের কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আরটিএ সংবাদমাধ্যমের সঞ্চালক শবনম খান দাওরান একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমি কাজে ফিরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওরা আমাকে কাজ করতে দেয়নি। বলা হয়েছে, শাসক বদলে গিয়েছে। আমি তাই আর কাজ করতে পারব না।’
একটি সংবাদমাধ্যমের হয়ে ছবি তুলতেন নাজমা (নাম পরিবর্তিত)। তাঁর কথায়, ‘আমাদের সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছি। দেশ থেকে বেরোনো ছাড়া আমাদের কোনও উপায় নেই। অসম্ভব আতঙ্কে দিন কাটছে। কী করে নিস্তার পাব জানি না।’
ফারিহা এসার নামে এক মানবাধিকার কর্মী একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘শিক্ষা, কর্ম, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আমরা ত্যাগ করব না।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top