১৮ বছরের পর ছেলেমেয়ের বিয়ে না দিলে জরিমানা, খসড়া বিল পাকিস্তানি বিধায়কের

MMA-MPA-Syed-Abdul-Rashid.jpg

Onlooker desk: ১৮ বছর পেরোলেই ছেলেমেয়ের বিয়ে দেওয়া না-হলে জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে মুচলকো দিয়ে ‘দেরি’র কারণ জানাতে হবে মা-বাবাকে। দিতে হবে ৫০০ টাকা জরিমানা।
এমন আজব একটি প্রাইভেট বিলের খসড়া জমা পড়েছে পাকিস্তানের সিন্ধ অ্যাসেম্বলিতে। মুত্তাহিদা মজলিশ ই আমল (এমএমএ)-র বিধায়ক সৈয়দ আব্দুল রাশিদের জমা দেওয়া ওই খসড়া প্রাইভেট বিলের বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়েছে টুইটারে। কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা প্রশ্ন তুলছেন, কেউ বা মজা করছেন।
বিলটির উদ্দেশ্য জানাতে লেখা হয়েছে — এর ফলে সমাজের ভালো হবে। রাশিদের আশা, শাসক-বিরোধী দু’পক্ষের সমস্ত জনপ্রতিনিধি সিন্ধ প্রদেশের যুব সমাজের উন্নতির স্বার্থে এই বিলে সায় দেবেন।
বিলটি জমা দেওয়ার পর ভিডিয়ো বার্তায় রাশিদ জানান — এর ফলে শিশুদের ধর্ষণ, বেআইনি কার্যকলাপ ক্রমশ বাড়ছে। সে সবকে নিয়ন্ত্রণ করতে হজরত মহম্মদের শরিয়াত এবং ইসলামিক শিক্ষা অনুযায়ী মুসলিম ছেলেমেয়েদের ১৮-র পরে বিয়ের অড়ুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করা অভিভাবকদের, বিশেষত মা-বাবার কর্তব্য। যে সব কারণে বিয়েতে আজকাল বিলম্ব হচ্ছে, সেগুলিও ইসলামিক শিক্ষার পরিপন্থী বলে দাবি রাশিদের।
কী সেই কারণ? প্রতিযোগিতা। রাশিদের তেমনটাই মত। চাকরি পাওয়া, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে প্রচেষ্টা মানুষ করে, সেটি এক ধরনের প্রতিযোগিতা বলে তাঁর মত। সে সব বর্জন করতে পারলে অনেক সরল, শান্তির জীবন পাওয়া যাবে। এই ভাবনা থেকে রাশিদের দাবি — ১৮-র পরে ছেলেমেয়েদের বিয়ে না হলে কেন দেরি হচ্ছে এবং কবে বিয়ে হবে, তা মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে মা-বাবাকে।
অনেক টুইটার ব্যবহারকারীই এই খবরে সিন্ধ প্রদেশের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেন। তাঁদের শুধরে দিয়ে টুইটারেই বাকিরা জানান, বিলটি খসড়া আকারে একজন পেশ করেছেন। তা পাশ হয়নি। কাজেই সরকারকে নিশানা করা অর্থহীন। কারও কারও আশা, পরবর্তী অধিবেশনেই বিলটি খারিজ করে দেওয়া হবে। সাংবাদিক-চলচ্চিত্র নির্মাতা মুনিজে জাহাঙ্গির খসড়া বিলটিকে ‘অসাধারণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top