কানাডার স্কুলপাঠ্যে স্থান পেল ভারতের কৃষক আন্দোলন, চিঠি দিয়ে আপত্তি জানাল ভারতীয় দূতাবাস

farmer-protest.jpg

ভারতীয় চাষিদের এই আন্দোলনই পড়ানো হচ্ছে কানার ছাত্রছাত্রীদের

Onlooker desk: কানাডার (Canada) পাঠ্যবইয়ে স্থান করে নিয়েছে ভারতের বর্তমান কৃষক আন্দোলন (farmers protest)। তাতে আপত্তি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে টরোন্টোর ভারতীয় দূতাবাস। স্কুল পাঠ্য থেকে ‘মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক’ বিষয়গুলি সরাতে বলা হয়েছে। গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার তিন কৃষি আইন আনে। তারই বিরুদ্ধে নভেম্বর মাস থেকে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকরা।
কিন্তু এ সম্পর্কিত পাঠ্যে তথ্য বিকৃতি রয়েছে বলে অভিযোগ। সে কারণে গত মার্চ মাসে অন্টোরিও প্রদেশের সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ভারতীয় কনসুলেট জেনারেল। পিল, টরোন্টো ও ইয়র্ক জেলার স্কুলে কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে যা পড়ানো হচ্ছে, তাই নিয়ে আপত্তি। কনসুলেট জেনারেলের অভিযোগ, এতে মেরুকরণ হচ্ছে। ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে।’
ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে — এই ঘটনাটিকে কনসুলেট জেনারেল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ব্যক্তিগত অসাধু স্বার্থ চরিতার্থ করতে কিছু লোক ভারত (india) ও কানাডার (Canada) বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্টের চক্রান্ত করছে। এখানেও শেষ নয়। দূতাবাসের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা তাদের কাছে গিয়েছেন। ওই পাঠ্যের জন্য তাঁদের ছেলেমেয়েদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ। চিঠিতে লেখা হয়েছে — বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও বিষিয়ে উঠতে পারে।
এ দিকে, কানাডার (Canada) বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা পাঠ্যক্রমে কৃষক আন্দোলনকে (farmers protest) রাখার পক্ষপাতী। ব্রাম্পটন হাই স্কুলের শিক্ষিকা সিম্মি জসওয়াল বলেন, ‘এ তো কোনও দূরবর্তী সম্পর্ক নয়। বরং ছাত্রছাত্রীদের জীবদ্দশায় ঘটে চলা আন্দোলন।’ জসওয়ালের পরিবার ওই আন্দোলনের শরিক। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের অনেকের পরিবারও তিন আইনের বিরুদ্ধে সরব।
চিঠিটির তীব্র বিরোধিতা করেছে ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন অফ কানাডা। সংগঠনের লিগাল কাউনসেল বলপ্রীত সিং বলেন, ‘আমার মতে, এই চিঠি যথেষ্ট হাস্যকর। যে সব গুরুতর অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, সবই ভিত্তিহীন।’
গত বছর ডিসেম্বরে আন্দোলনকারী কৃষকদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছিলেন, তাঁর দেশ সব সময়ই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে। যার জবাবে ভারত সরকারের বক্তব্য ছিল, এই মন্তব্য অযাচিত ও ভুল তথ্যনির্ভর। ‘স্বাধীন গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নিয়ে কথা বলা মোটেই পছন্দ হয়নি নরেন্দ্র মোদী সরকারের। যদিও তাতে বিরোধী মুখ আটকে রাখা যায়নি। আন্তর্জাতিক স্তরের বহু নেতানেত্রী ও তারকা এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
তিন কৃষি আইনে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশের পথ তৈরি হয়েছে। তিনটি আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় কৃষকরা। সরকারের সঙ্গে তাঁদের বহু বার কথা হলেও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। নানা পদ্ধতি অবলম্বন করলেও টলানো যায়নি আন্দোলনকারীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top