অন্ধকার থাকতে লাইন, আফগানিস্তানে পাসপোর্টের আবেদন বেড়েছে পাঁচ গুণ

Afghanistan-Passport-application.jpg

পাসপোর্টের আবেদনের জন্য লাইন আফগানিস্তানে

Onlooker desk: তাঁর হাজার হাজার সতীর্থের মতো আব্দুল খালিদ নাবিয়ার আফগানিস্তানের (Afghanistan) প্রধান পাসপোর্ট অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটা থেকে পালাতে হবে। তার ‘ছাড়পত্র’ জোগাড় করতে।
শহরগুলিতে এখনও পা না ফেললেও গ্রাম-মফস্সল এলাকায় তালিবানের (Taliban) আগ্রাসন ক্রমশ বাড়ছে। আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করার পর আফগানিস্তানে (Afghanistan) তালিবানের আগ্রাসন বেড়েছে। লুটপাট, নিধনযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের ক্ষমতা আছে, তাঁদের অনেকেই দেশ ছেড়ে কার্যত পালাতে চাইছেন। লাইন বাড়ছে পাসপোর্ট (Passpost) অফিসের সামনে। তাঁদের অনেকে হয়তো এখনই দেশ চাড়বেন না। কিন্তু অবস্থা আরও ঘোরালো হয়ে উঠলে যাতে পালাতে পারেন, সেই বন্দোবস্ত করে রাখছেন।
সে কারণেই ভোরের আলো ফোটার আগে প্রায় রোজ লম্বা লাইন পড়ছে কাবুলের পাসপোর্ট (Passpost) অফিসের সামনে। আটটা বাজার আগে তার দৈর্ঘ্য শ’খানেক মিটার পেরিয়ে যায়।
আবেদনকারীরা ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন। কেউ কেউ লাইন ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। আপাত ভাবে পাসপোর্টের (Passpost) আবেদনে কোনও চমক না থাকলেও চমক এর সংখ্যায়। এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, ‘সাধারণত দিনে হাজার দুয়েক আবেদন আসত। সেটাই এখন বেড়ে ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।’ অর্থাৎ আবেদনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পাঁচটায় স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে পাসপোর্টের (Passpost) লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন খলিলুল্লাহ। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমরা এসে দেখি, আগে শ’তিনেক লোক দাঁড়িয়ে আছেন।’ ঘণ্টাতিনেক লাইনে দাঁড়িয়েও আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়নি তাঁর। প্রত্যেক আবেদনকারীর ছবি তোলা, চোখের বায়োমেট্রিক রেকর্ড, আঙুলের ছাপ ইত্যাদি নেওয়া হয়। যেতে হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের ভিতর দিয়ে। তাই সময়ও লাগে অনেকখানি।
বছর ২৩-এর জিনাত বাহার নাজারি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় শুনতাম, তালিবানরা (Taliban) মানুষ মারে। তাদের তুলে নিয়ে যায়। আর খোঁজ মেলে না। মহিলাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। কিন্তু যখন ওরা এ সব করত, তখন আমি এতটাই ছোট ছিলাম যে কিছু মনে নেই। সব কেবল বাড়ির লোকের কাছে শুনেছি। শুধু জানি, তালিবান (Taliban) মানে আতঙ্ক, আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও রক্তের স্রোত। ওরা ক্ষমতায় এলে আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নটা আর থাকবে না।’
কিন্তু এত মানুষ যে পাসপোর্ট (Passpost) বানাচ্ছেন, প্রয়োজনে তাঁরা যাবেন কোথায়? কারণ বহু নথিপত্রের পাশাপাশি আফগান নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে লাগে আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ। যা বেশিরভাগের কাছেই নেই। তবু, সবাই ‘প্রস্তুতি’ নিয়ে রাখছেন।
একটি ব্রিটিশ সিভিল সোসাইটি গ্রুপের হয়ে অনুবাদকের কাজ করেন বছর ৫২-র সর্দার। তাঁর কথায়, ‘আমাদের প্রাণ বিপন্ন। আমাদের কাছে কোনও বিকল্প নেই।’ বিদেশি বাহিনী বা দূতাবাসে যাঁরা অনুবাদকের কাজ করেন, তাঁদের ত্রাস আরও বেশি। তালিবানের (Taliban) টার্গেট লিস্টে এঁরা একেবারে উপরের দিকে। বেশ কিছু রাষ্ট্র জরুরি ভিত্তিতে ভিসা দিয়ে এঁদের আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে বেরোনোর পথ করে দিয়েছে।
প্রাক্তন আমলা হাজি সৈয়দ মহম্মদ সুলতানিও কোনও একদিন নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চান। কিন্তু ফের উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার ভয় তাঁর পিছু ছাড়ে না। কারণ তালিবানের জমানায় রাশিয়ার হানাদারি ও সিভিল ওয়ারের সময়ে এক দফা উদ্বাস্তু হয়েছিলেন তিনি। বছর ৪৫-এর সুলতানি বলেন, ‘যতদিন থাকা যাবে, ততদিন দেশ ছাড়ব না।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top