তিয়েনআনমেন-স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে গ্রেপ্তার হংকংয়ের প্রতিবাদী

activist-arrested-in-Hong-Kong.jpg

Onlooker desk: চিনে বহু বছর ধরেই তা নিষিদ্ধ। বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন হামলার বর্ষপূর্তি উদযাপনে এ বার হংকংয়েও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল চিন। তা অমান্য করে আজ, শুক্রবার (৪ জুন) সকালে ১৯৮৯-এর সেই রক্তক্ষয়ী আক্রমণের প্রতিবাদে মোমবাতি জ্বালাতে গিয়ে হংকং পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন এক আন্দোলনকারী। সকাল সকাল নিজের অফিসের বাইরে চার অফিসার গ্রেপ্তার করে বছর ৩৭-এর চাও হাং তুংকে। বাকি প্রায় সবাইকে জেলে পোরার পর আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসাবে মুক্ত ছিলেন চাও। তাঁকেও নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিল পুলিশ।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিয়েনআনমেন স্কোয়্যারে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপরে নির্বিচার গুলি চালিয়ে ১৯৮৯-এর ৪ জুন কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীকে হত্যা করে চিনের লাল ফৌজ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে ফি বছর হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া পার্কে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান গণতন্ত্রকামী মানুষ। কিন্তু গত বছর করোনার কারণে তা বন্ধ ছিল। এ বারও একই কারণে তা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। যদিও অভিজ্ঞদের মতে, হংকং ও ম্যাকাওয়ের বাসিন্দাদের মুখ বন্ধ করতেই চিনের এই উদ্যোগ।
এ বার মোমবাতি প্রতিবাদে রাশ টানতে ভিক্টোরিয়া পার্কে কয়েক হাজার অফিসারকে মোতায়েন করা হয়। ওই মোমবাতি প্রতিবাদের আয়োজন করে হংকং অ্যালায়েন্স। চাও তার একজন ভাইস চেয়ারপার্সন। বেআইনি ভাবে জমায়েতে মদত দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চিনে এই প্রতিবাদের কণ্ঠ আগেই রোধ করা হলেও চিনা ভূখণ্ডে একমাত্র হংকংয়েই প্রতিবাদ হতো। এ বার তা বন্ধ হওয়ায় গণতন্ত্রকামী মানুষের বাড়ি বা পাড়ায় মোমবাতি জ্বালিয়ে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে দিনটি পালনের আহ্বান জানানো হয়। পশ্চিমী বিভিন্ন দেশের সরকার-সহ বহু সমালোচকের দাবি, ১৯৯৭-এ ব্রিটেনের হাত থেকে হংকংয়ের শাসনভার নিলেও নিজেদের প্রতিশ্রুতি মেনে তার মূল স্বাধীনতাগুলি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে চিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top