অ্যান্টিভাইরাস সফ্টওয়্যারের জনক ম্যাকাফির দেহ বার্সেলোনার জেলে, ইতি এক রঙিন জীবনে

John-Mcafee.jpg

Onlooker desk: মারা গেলেন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের পুরোধা জন ম্যাকাফি (John McAfee)। প্রাথমিক অনুমান, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। বুধবার স্পেনের একটি জেলে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ম্যাকাফিকে (John McAfee)।
কর ফাঁকির অভিযোগে মার্কিন সরকার তাঁকে খুঁজছিল। তাঁর প্রত্যর্পণের নির্দেশ দেয় স্পেনের আদালত। তার খানিকক্ষণ বাদেই জেলে ম্যাকাফির (John McAfee) দেহ উদ্ধার হয়। বছর ৭৫-এর ম্যাকাফি বার্সেলোনার (Barcelona) কাছে ব্রায়ানস ২ পেনিটেনশিয়ারিতে বন্দি ছিলেন। উত্তর-পূর্ব কাতালোনিয়ার কারা দপ্তরের এক মুখপাত্রও জানান ‘প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা’ বলে মনে হচ্ছে।
গত বছর অক্টোবরে ধরা পড়েন ম্যাকাফি (John McAfee)। ২০২০-তে বার্সেলোনা বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ পাসপোর্ট-সহ গ্রেপ্তার হন তিনি। ইস্তানবুলের বিমান ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সফটওয়্যার অন্ত্রপ্রনিয়র।
ম্যাকাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৪ থেকে ২০১৮-র মধ্যে ইচ্ছাকৃত ভাবে ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করেননি তিনি। অথচ কনসাল্টিং ওয়ার্ক, ক্রিপ্টোকারেন্সি, নিজের জীবনীর স্বত্ব বিক্রি করে কয়েক মিলিয়ন আয় করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ৩০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারত ম্যাকাফির (John McAfee)।
নাসা, জেরক্স এবং লকহিড মার্টিনে কাজ করেছেন ম্যাকাফি (John McAfee)। ১৯৮৭-তে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের প্রথম কমার্শিয়াল অ্যান্টিভাইরাস সংস্থা ‘ম্যাকাফি’। তবে ২০১১-য় সেই সংস্থাকে ইন্টেলের কাছে বিক্রি করে দেন। তারপরে ম্যাকাফি-তে আর কোনও ভূমিকা ছিল না তাঁর। কিন্তু তার নামের সঙ্গে তিনি জড়িত। পৃথিবী জুড়ে ৫০০ মিলিয়ন মানুষ তা ব্যবহার করেন।
আইনজীবী ভিলালবা বলেন, ‘ওঁকে এতদিন জেলে রাখার কোনও কারণ ছিল না। নিষ্ঠুর সিস্টেমের বলি হলেন তিনি।’ আমেরিকায় এ বার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা খারিজের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০১৯-এ ম্যাকাফি জানিয়েছিলেন, নীতিগত কারণে আট বছর ধরে কর দেন না তিনি। সে বছরই আমেরিকা ছেড়ে বিলাসবহুল ইয়টে বসবাস শুরু করেন। সঙ্গে স্ত্রী, চারটি বিশালাকার কুকুর, দু’জন নিরাপত্তারক্ষী ও সাতজন স্টাফ। মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কিউবাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন ম্যাকাফি। লিবার্টেরিয়ান পার্টির হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৌড়েও নামতে চেয়েছিলেন।
২০১৮-য় ম্যাকাফি জানিয়েছিলেন, তাঁর ৪৭টি ছেলেমেয়ে। ২০১২-য় এক প্রতিবেশীকে হত্যার অভিযোগে তাঁকে খোঁজে আমেরিকা। পরে অবশ্য জানায়, এই ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।
দীর্ঘ পলায়ন পর্বেই স্ত্রী জেনিসের সঙ্গে তাঁর আলাপ। জেনিস ছিলেন যৌনকর্মী। সেই সূত্রে তাঁর কাছে যাওয়া ম্যাকাফির। পরে প্রেম ও বিয়ে।
রবিবার জেনিস একটি টুইট করেছিলেন। সেখানে লেখেন — জনকে জীবনভর জেলে বন্দি করে একটা উদাহরণ তৈরি করতে চায় মার্কিন প্রশাসন। ওদের সংস্থার অভ্যন্তরীণ কারচুপি নিয়ে জন প্রতিবাদ করে। সে কারণেই এমনটা করছে তারা।
বুধবার সকালেই স্পেনের ন্যাশনাল কোর্ট আমেরিকায় তাঁর প্রত্যর্পণে সায় দেয়। কিন্তু এতেই তাঁর প্রত্যর্পণ চূড়ান্ত হয়নি। এর বিরুদ্ধে আবেদন জানানো যেত। তা ছাড়া তাঁর প্রত্যর্পণে স্প্যানিশ মন্ত্রিসভার সায়ও দরকার ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ।
ম্যাকাফির (John McAfee) আইনজীবী জেভিয়ার ভিলালবা জানান, গত ন’মাসের কারাবাসে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। গত মাসে শুনানিতে ম্যাকাফি জানিয়েছিলেন, তাঁর ৭৫ বছর বয়স। আমেরিকায় দোষী সাব্যস্ত হলে বাকি জীবনটা জেলেই কাটাতে হবে। ম্যাকাফি বলেছিলেন, ‘আমি আশা করব, স্প্যানিশ আদালত এই অবিচার হতে দেবে না। আমেরিকা আমাকে একটি উদাহরণ হিসাবে দেখাতে চায়।’
তবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ম্যাকাফির চোর-পুলিশ খেলা দীর্ঘদিনের। এমনকী প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল ইয়টেও থেকেছেন অনেকদিন। কর ফাঁকির অফিযোগে টেনেসিকে দোষী সাব্যস্ত হন। নিউ ইয়র্কে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top