দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে থাবা বসাচ্ছে করোনা

CORONA-WORLD1.jpg

Onlooker desk: ভারতের ভয়াবহ করোনা চিত্রের পাশাপাশি ভাইরাসের তাণ্ডব-মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ। ভারতের মতো এই দেশগুলিরও বেশ কয়েকটিতে ভয়ঙ্করতম রূপ নিয়েছে মহামারী। গত বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে গোটা পৃথিবীর মোট সংক্রামিতের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃতের এক চতুর্থাংশ ভারতের।
ভারতের পাশাপাশি কিন্তু ভাইরাস ক্রমশ থাবা ছড়াচ্ছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়। বুধবারই হু জানিয়েছিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ২৭ লক্ষ নতুন সংক্রমণ ও ২৫ হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় যা যথাক্রমে ১৯ ও ৪৮ শতাংশ বেশি।

শ্রীলঙ্কা

মধ্য-এপ্রিল থেকে শ্রীলঙ্কায় করোনা সংক্রমণের হার হু হু করে বেড়েছে। শুক্রবার সেখানে এক দিনে সংক্রামিত হয়েছেন ১,৮৯৫ জন। গত ১৩ ও ১৪ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার নববর্ষ উপলক্ষে রাস্তাঘাট, দোকান-বাজারে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। তার পরেই সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দেয় লাগামহীন ভাবে। বস্তুত, ওই উদ্যাপনের আগে প্রশাসনের কর্তাদের ধারণা হয়েছিল, কোভিড নিয়ন্ত্রণেই চলে এসেছে। সে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব পালনে দেশবাসীকে উৎসাহিত করেন তাঁরা। তারপরেই ক্রমশ বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৭ এপ্রিল দেশে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা প্রথম ১০০০ ছাড়ায়। স্কুল, উৎসব-অনুষ্ঠান বন্ধ করে, বেশ কিছু জায়গায় লকডাউন ঘোষণা করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। বাংলাদেশ ও নেপালের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সিল করে এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রও।

মালদ্বীপ

করোনায় তিন মাস লকডাউনের পর গত বছর জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল মালদ্বীপ। পর্যটন-নির্ভর এই দেশ এখনও বলিউডের তারকা বা বিত্তশালী যে ভারতীয়রা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে চান, তাঁদের আহ্বান জানাচ্ছে। এ বছর এখনও পর্যন্ত মালদ্বীপের পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন ভারতীয়রা। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার ভারতীয় সে দেশে ঘুরতে গিয়েছেন। পর্যটন বাড়াতে গত মাসে মালদ্বীপ প্রশাসন ঘোষণা করে, পর্যটকরা এলে তাঁদের টিকা দেওয়া হবে। তবে দেশের সব নাগরিক টিকা পাওয়ার পরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কিন্তু সেখানেও হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় সংক্রামিত হয়েছেন ৬০১ জন। মালদ্বীপের জনসংখ্যা ৫ লক্ষ ৩০ হাজার। প্রশাসন সূত্রের খবর, গত ক’দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। গ্রেটার মালে অঞ্চলে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে পরদিন ভোর ৪টে পর্যন্ত কার্ফু শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার।

নেপাল

নেপালের পরিস্থিতি ভারতের থেকেও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে এই প্রতিবেশী দেশে মোট পরীক্ষার ৪৪ শতাংশ রিপোর্ট পজিটিভ আসে। দেশের পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন নেপালের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রকের মুখপাত্র সমীর অধিকারী। নেপালের লাগামছাড়া সংক্রমণের পিছনে অনেকে ভারতকে দায়ী করেছে। দুই দেশের মধ্যে লম্বা সীমান্ত। দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেক ভারতীয়ই সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে ঢুকে পড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ড

একেবারে গোড়ায় চিনের পর দ্বিতীয় যে দেশে করোনার হদিস মিলেছিল, তা হলো থাইল্যান্ড। কিন্তু কড়াকড়ির মাধ্যমে সংক্রমণে অনেকখানি লাগাম পরাতে পেরেছিল তারা। এ বার পরিস্থিতি আলাদা। চ্যালেঞ্জ অনেক বড়। শুধু শুক্রবারই থাইল্যান্ডে ২৪ ঘণ্টায় সংক্রামিত হয়েছেন ১,৯১১ জন। এ ক্ষেত্রেও একাধিক নৈশ-বিহারে সমাগম, মধ্য এপ্রিলে নববর্ষ উদ্যাপন ইত্যাদিকে দায়ী করা হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি এমনই যে পজিটিভ এলে ভর্তি নেওয়ার ভয়ে অনেক হাসপাতাল পরীক্ষা করতেই রাজি হচ্ছে না। কারণ শয্যা নেই। প্রশাসন অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া

কম্বোডিয়া ছিল এ পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বনিম্ন সংক্রামিত দেশগুলির একটি। কিন্তু সম্প্রতি সেখানেও দৈনিক ৬০০ সংক্রমণের হদিস মিলছে। মৃত্যুও বাড়ছে তাল মিলিয়ে। দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এই দেশে হু হু করে সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি সামলানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা।
ইন্দোনেশিয়ায় আবার অতিরিক্ত ছোঁয়াচে ভারতীয় স্ট্রেনের দেখা মিলেছে। ২৭ কোটির দেশে গড়ে দৈনিক পাঁচ হাজার মানুষ সংক্রামিত হচ্ছেন। এর মধ্যে সামনেই ঈদ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। যদিও তার পরেও বহু মানুষ সেই নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top