ভারতের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে অরুণাচলের ধার ঘেঁষে তিব্বতে বুলেট ট্রেন চালু চিনের

first-fully-electrified-bullet-train-in-Tibet1.jpg

Onlooker desk: তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে প্রথম পুরোদস্তুর বৈদ্যুতিন বুলেট ট্রেনের যাত্রা শুরু করল চিন। শুক্রবার এই রেলযাত্রার সূচনা হয়। লাসার সঙ্গে নিংচিকে যুক্ত করছে এই রেলপথ। নিংচি তিব্বতের সীমান্তে এবং অরুণাচল প্রদেশের কাছে অবস্থিত একটি শহর। অবস্থানের দিক থেকে তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
লাসা-নিংচি রেলপথ সিচুয়ান-তিব্বত রেলওয়ের অংশ। ৪৩৫.৫ কিলোমিটার লম্বা করিডরকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদ্যাপনের আগে যুক্ত করা হলো। আঘামী ১ জুলাই ওই উদ্যাপন।
চিন এমনিতেই অরুণাচলকে ভারতের অংশ বলে মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। ভারত এই দাবি একেবারেই মানে না। ভারত-চিন সীমান্তের এই দ্বৈরথ ৩,৪৮৮ কিলোমিটার লম্বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে।
শুক্রবারের এই রেল স্বশাসিত তিব্বত অঞ্চলের প্রথম চালু হওয়া বৈদ্যুতিন রেলপথ। তিব্বতে কিংঘাই-তিব্বত রেলপথ রয়েছে। যা কিংঘাই-তিব্বত মালভূমির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বরাবর গিয়েছে। সিচুয়ান-তিব্বত রেলওয়ে তিব্বতের দ্বিতীয় রেলপথ।
এই রেলপথ তৈরি হচ্ছিল বেশ কিছুদিন যাবৎ। চিনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং গত বছর নভেম্বরে এই নতুন রেলপথ দ্রুত নির্মাণের নির্দেশ দেন। চিনের সিচুয়ানের সঙ্গে তিব্বতের নিংচি সংযোগকারী এই রেললাইন সীমান্তের স্বার্থ ও ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। এমনটাই মত জিনপিংয়ের।
মূলত ভারত-চিন সংঘর্ষ পরিস্থিতি তৈরি হলে এই রেলপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে চিনের। কিয়ান ফেং-এর কথায় তার ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউট অ্যাট সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগের প্রধান। কিয়ানের বক্তব্য, ‘ধরা যাক, ভারত-চিন সীমান্তে কোনও সঙ্কট তৈরি হলো। সে ক্ষেত্রে এই রেলপথের মাধ্যমে স্ট্র্যাটেজিক সামগ্রী সরবরাহে চিনের সুবিধা হবে।’

first fully electrified bullet train in Tibet
এ দিন শুরু হওয়া বুলেট ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। এই গতিতে লাসা থেকে নিংচি পৌঁছতে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগবে। এতদিন এতে অন্তত ৫ ঘণ্টা লাগত। পথে ট্রেনটি থামবে শান্নান স্টেশনে। সেখান থেকে নিংচি পৌঁছনো যাবে ২ ঘণ্টায়। এতদিন এই দূরত্ব পেরোতে লাগত ৬ ঘণ্টা।
এই রেল লাইনের ৯০ শতাংশই সমুদ্রপৃষ্ঠের ৩০০০ মিটার ঊর্ধ্বে। এটি তিব্বতের প্রথম বুলেট ট্রেন। যাকে চিনে হাই স্পিড রেল (এইচএসআর) লাইন বলা হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম এইচএসআর নেটওয়ার্ক রয়েছে চিনেই।
সিচুয়ান-তিব্বত রিলপথ শুরু হয় চেংদু থেকে। চেংদু সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী। ইয়া’আনের ভিতর দিয়ে গিয়ে তা তিব্বতে প্রবেশ করে কামদোর পথ ধরে। এতে চেংদু থেকে লাসা পৌঁছনোর সময় ৪৮ থেকে কমে দাঁড়াচ্ছে ১৩ ঘণ্টায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top