২৬০টি কার্টনে ২৬০০ কিলো আম মোদী-মমতাকে পাঠালেন হাসিনা

Polish_20210705_014655572.jpg

Onlooker desk: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আম পাঠালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২,৬০০ কিলোগ্রাম আম পাঠানো হয়েছে বলে বাংলাদেশি আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
বেনাপোল চেক পোস্ট দিয়ে সীমান্ত পেরিয়েছে ফলের রাজা। রংপুরের হাঁড়িভাঙা প্রজাতির আম ‘বন্ধুত্বের স্মারক’ হিসাবে এসেছে প্রতিবেশী দেশ থেকে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে তেমনটাই বলেছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা।
সীমান্ত পেরোনোর পর ওই ফল ‘রিসিভ’ করেছেন মহম্মদ সামিউল কাদের। তিনি কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি। এ বার এই উপহার প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
প্রথমে কাস্টমস ও পোর্টের সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তারপরে রবিবার দুপুরে সীমান্ত পেরোয় ২৬০ কার্টন আম। একাধিক বাংলাদেশি আধিকারিক সীমান্তে হাজির ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বেনাপোল মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আম পাঠানোর ইচ্ছা রয়েছে শেখ হাসিনার। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে তেমনটাই জানানো হয়েছে। এই রাজ্যগুলি হলো অসম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা। সবক’টি রাজ্যের সঙ্গেই বাংলাদেশের সীমান্ত এক।
গত বছর ভারতে ইলিশ রপ্তানিতে সায় দেয় বাংলাদেশ। মাছ ব্যবসায়ীরা দেড় হাজার টন পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পান। বাঙালির সঙ্গে ইলিশের যোগ যে কতটা নিবিড়, তা কারও অজানা নয়।
এ বার সৌজন্যের সেই তালিকায় যুক্ত হলো আম। তবে উপমহাদেশে আম-সৌজন্য বিরল নয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অবশ্য তা বেশি প্রচলিত। অতীতে জিয়া-উল-হক, পারভেজ মুশারফ, রেহমান মালিকরা ভারতীয় নেতাদের আম পাঠিয়ে সৌজন্য দেখিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কয়েকটি দেশে আম পাঠাতে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু চিন-সহ একাধিক দেশ করোনার কারণে উপহার প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ দিকে, ভারতের উপরে বাংলাদেশি জনতার ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ মার্চের শেষ থেকে টিকার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। অথচ সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এ বছরের প্রথমার্ধে প্রতি মাসে কোভিশিল্ডের পাঁচ মিলিয়ন ডোজ পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।
এই পরিস্থিতিতে দেড় মিলিয়ন বাংলাদেশি কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ নিয়ে বসে আছেন। ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়েই রাশিয়া ও চিনের ভ্যাকসিন আমদানিতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ।
ভারত অবশ্য ‘প্রতিবেশীকে প্রাধান্য’ নীতি মেনে বাংলাদেশকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। এ বছর মার্চে ঢাকা গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোভিড-১৯ পর্বে তাঁর একমাত্র বিদেশ সফর সেটাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top