সেনা বিমান ভেঙে ফিলিপিন্সে মৃত অন্তত ২৯

military-plane-crashes-in-Philippines.jpg

Onlooker desk: মিলিটারি প্লেন ভেঙে অন্তত ২৯ সেনার মৃত্যু হলো ফিলিপিন্সে। সি-১৩০ মিলিটারি প্লেনটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভেঙে পড়ে। রবিবার সকালে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাগুলি।
বিমানটি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে উড়ান শুরু করে সাগায়ান ডি ওরো শহর থেকে। জোলো দ্বীপে ল্যান্ডিংয়ের সময়ে রানওয়ে মিস করে সেটি। এ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছেন ফিলিপিন্সের মিলিটারি চিফ অফ স্টাফ সিরিলিটো সোবেজানা। সেখানে জানানো হয়েছে, সুলু প্রদেশের পাহাড়ি শহর পাতিকুলের বাংকাল গ্রামে আছড়ে পড়ে বিমানটি।
সংবাদমাধ্যমে সোবেজানা বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। প্লেনটি রানওয়ে মিস করে। তারপরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। বিমানটি ক্র্যাশ করে।’
জ্বলন্ত আকাশযানের তলা থেকে ৪০ জনকে বের করে আনা হয়। উদ্ধারকাজ চলছে।
তবে এয়ারক্রাফ্টে কতজন ছিলেন, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। একটি সংবাদ সংস্থা সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ৮৫ জন ছিলেন বিমানটিতে। অন্য একটি সংস্থা আবার ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেলফিন লরেনজানাকে উদ্ধৃত করেছে। তিনি জানিয়েছেন, বিমানে ৯২ জন ছিলেন। তার মধ্যে তিনজন পাইলট ওব পাঁচ জন অন্যান্য ক্রু মেম্বার।

military plane crashes in Philippines
সোশ্যাল মিডিয়ায় দপর্ঘটনার বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভেঙে পড়া বিমান থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরোচ্ছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। ফিলিপিন্সের মধ্য ভাগে গত এক সপ্তাহ যাবৎ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তার জেরে সেখানে আবহাওয়া এমনিতেই খারাপ। কিন্তু তার প্রভাব সুলু প্রদেশে কতখানি পড়েছিল, সেটা স্পষ্ট নয়। যে কারণে এখনও দুর্ঘটনার কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা।
সুলু প্রদেশের মূল শহর জোলো। সেখানেই বিমানবন্দরটি অবস্থিত। তার কয়েক কিলোমিটার দূরে পার্বত্য অঞ্চল। প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাটি। সেখানেই কয়েক দশক ধরে আবু সায়াফ জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন সেনারা।
আবু সায়াফের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর যোগও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবু সায়াফের কিছু সদস্য আইএসের সঙ্গে যুক্ত বলে খবর।
এই গোষ্ঠীকে পৃথক ভাবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে আমেরিকা ও ফিলিপিন্স। বিস্ফোরণ, পণের দাবিতে অপহরণ এবং মাথা কেটে খুনের মতো নানা অপরাধে তারা জড়িত।
সরকার তাদের বিরুদ্ধে লাগাতার যুদ্ধ চালাচ্ছে। তাতে আবু সায়াফের প্রতিপত্তি ও দাপট অনেকখানি কমেছে। কিন্তু এখনও দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে অন্যতম বড় ‘থ্রেট’ তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top