দু’দশক বাদে বাগরাম থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সেনা প্রত্যাহার করল আমেরিকা

America-withdraws-troops-from-Bagram-1.jpg

Onlooker desk: দু’দশক পরে আফগানিস্তান ছাড়ল মার্কিন সেনা। আমেরিকা এবং নাটোর সমস্ত দল আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি বাগরাম ত্যাগ করেছে। এর ফলে বিদেশি নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করা হলো আফগানিস্তান থেকে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে বাগরাম এয়ার বেসই ছিল মার্কিন অপারেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তালিবান ও আল কায়দার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা হয় এই ঘাঁটি থেকেই। আকাশপথে হানা ও অস্ত্র মজুতের কেন্দ্র ছিল বাগরাম।
মার্কিন এক সেনা আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সব কোয়ালিশন বাহিনী বাগরাম ছেড়ে চলে গিয়েছে।’ তবে ঠিক কবে শেষ দলটি বাগরাম ছেড়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে চাননি তিনি। বাগরাম ঘাঁটি কাবুল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে।
অন্যদিকে, কবে ওই ঘাঁটি আফগান সেনার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে এ কথা বলেন এক আফগান আধিকারিক।
মার্কিন সেনা এবং নাটো আফগানিস্তানের সঙ্গে বাকি সম্পর্কও গুটিয়ে নিচ্ছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
গত দু’মাসে আফগানিস্তান জুড়ে প্রবল হানাদারি চালাচ্ছে তালিবান। আফগান সেনা দেশের শহরাঞ্চলে নিজেদের দখল কায়েম করেছে। তালিবান হামলা চালাচ্ছে মূলত জেলাগুলিতে।
মনে করা হচ্ছে, আফগান সেনা বাগরামের দখল নিলে তালিবানের উপরে চাপ বাড়ানো যাবে। দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
গত কয়েক বছরে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও নাটোর সদস্যরা সেখানে গিয়েছেন। বাগরাম ঘাঁটিটি আসলে একটি ছোটখাটো শহর। তার মধ্যে সুইমিং পুল, সিনেমা, স্পা থেকে শুরু করে ফাস্ট ফুডের সারিবদ্ধ দোকান, কী নেই সেখানে! বার্গার কিং, পিৎজা হাটের আউটলেটও রয়েছে।
রয়েছে একটি জেলও। সেখানে হাজার হাজার তালিবান ও জিহাদি বন্দি রয়েছে।
১৯৫০-এ কোল্ড ওয়ারের সময় এই ঘাঁটি তৈরি করে আমেরিকাই। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতেই এই ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল।
অথচ ১৯৭৯-তে আফগানিস্তানে সোভিয়েত-হামলার মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায় এই বাগরামই। লাল ফৌজ তাদের এক দশকের দখল অপারেশন চালাতে সেটিকে বিস্তৃত করে।
মস্কো চলে যাওয়ার পরে তা হয়ে ওঠে সিভিল ওয়্যারের কেন্দ্র। শোনা যায়, তিন কিলোমিটার লম্বা ঘাঁটির এক প্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করত তালিবান। অন্য প্রান্ত ছিল নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের দখলে।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাগরামে রকেট হামলা চালায় আইএস। ভবিষ্যতে তারা ওই ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়।
বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পরে নিরাপত্তা বজায়ে নজর রেখেছে নাটো-র নেতৃত্বাধীন কমব্যাট মিশন। তারা আফগান সেনাকে এই মর্মে প্রশিক্ষণও দিয়েছে।
এ বছর ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানে প্রায় সাড়ে ন’হাজার বিদেশি বাহিনী ছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল আমেরিকার, সংখ্যাটা ২৫০০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top