চিনে ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে সাংবাদিকতা, পুলিৎজার জয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভুত মেঘা

Polish_20210613_015148746.jpg

Onlooker desk: চিনের জিনজিয়াংয়ের উইঘুর ক্যাম্প নিয়ে সাহসী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসাবে তদন্তমূলক সাংবাদিকতায় এ বার পুলিৎজার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেঘা রাজাগোপালন! আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভুত শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁর নাম নীল বেদী।
বিজয়ীরা সার্টিফিকেটের পাশাপাশি পাবেন ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১ লক্ষ টাকা)।
উইঘুর মুসলিমদের জিনজিয়াং প্রদেশের কোনও এক ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে খোঁজখবর চালাচ্ছিলেন মেঘা। তাঁর ভিসা বাতিল করে বের করে দেয় চিনের কমিউনিস্ট সরকার। তাতে না দমে স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্য নিয়ে, কাজাখস্তানে ঢুকে তদন্ত চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পালিয়ে আসা কয়েকটি মুসলিম পরিবারের খোঁজ পান তরুণী। তা নিয়েই শুরু হয় লেখালিখি। ‘বাজফিড নিউজ’-এর সাংবাদিক মেঘার এই সিরিজ আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। একই কাজে পুরস্কার পেয়েছেন বাজফিডের অ্যালিসন কিলিং এবং ক্রিস্টো বুসচেক-ও।
মেয়ের সাফল্যে মেঘার বাবার প্রতিক্রিয়া টুইটারে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে — মেঘার বাবা মেয়েকে লিখছেন, ‘শুভেচ্ছা মেঘা। তোমার মা এইমাত্র আমাকে ফরোয়ার্ড করল। পুলিৎজার প্রাইজ। ওয়েল ডান।’ মেয়ের জবাব ‘ধন্যবাদ!!’
২০১৭-এ শুরু হয়েছিল মেঘার কাজ। জিনজিয়াং প্রদেশের গোপন স্থানে সংখ্যালঘু উইঘুর, কাজাকদের আটকে ডিটেনশন ক্যাম্প বানানো শুরু করেছে চিল। মেঘারা সেখানে ঢুকে পড়ায় পরে পুরো জিনজিয়াং প্রদেশেই পশ্চিমি সাংবাদিকদের ঢোকা নিষিদ্ধ হয়ে যায়! কিন্তু হাল না ছেড়ে মেঘা, অ্যালিসন ও ক্রিস্টো মিলে শুরু করেন জিনজিয়াংয়ের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণের কাজ। ৫০ হাজার লোকেশনের তথ্য হাতড়ে ২৬০টি ডিটেনশন ক্যাম্পের সন্ধান পান তাঁরা। সেখানেই আটকে রাখা হয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের। জেলবন্দিদের মতো কাজ করানো হচ্ছে তাঁদের দিয়ে। খবরের খোঁজে কাজাখস্তান পৌঁছে যান মেঘা। সেখানে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো জনা চব্বিশ লোকের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মেঘা। কিন্তু এর জন্য পুলিৎজার পাবেন, এতটা ভাবেননি মেঘা। তাঁর কথায়, ‘আমি হতবাক, এতটা ভাবতেই পারিনি।’ টিমের পাশাপাশি মেঘা কাজাখস্তানের সেই মানুষগুলোকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যাঁরা সরকারি হুমকি অগ্রাহ্য করে তাঁকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ‘ট্যাম্পা বে টাইমসের’ রিপোর্টার নীল বেদী এবং তাঁর সহকর্মী ক্যাথলিন শেরিফ অফিসের গোপন কীর্তি ফাঁস করে দেখিয়েছিলেন, কী ভাবে কম্পিউটার মডেলিং ব্যবহার করে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত করা হতো। সেই পদ্ধতিতে হাজারখানেক মানুষের উপরে চলত নজরদারি। এমনকী, বাদ যেত না শিশুরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top