এখনও মানতে পারছি না আপনি নেই, মিলখাকে শ্রদ্ধা ফারহান আখতারের

Milkha-Singh1.jpg

Onlooker desk: ‘প্রিয় মিলখা সিং জি, আমার একটা অংশ এখনও মানতে চাইছে না যে আপনি আর নেই…’
শুক্রবার রাতে এ ভুবনে দৌড় থামিয়েছেন মিলখা (Milkha Singh)। আজ, শনিবার সকালে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন ফারহান আখতার (Farhan Akhtar)। মিলখার (Milkha Singh) বায়োপিক ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এ রুপোলি পর্দার ‘উড়ন্ত শিখ’।
ফারহান এ দিন মিলখার সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। জানান, মিলখার (Milkha Singh) চলে যাওয়া এখনও মানতে পারছেন না। ফারহান (Farhan Akhtar) লেখেন — মনের এই জেদি দিকটা আপনার থেকেই পেয়েছি। যে মন একবার কিছু স্থির করে নিলে হাল ছাড়তে জানে না।
কঠিন পরিশ্রম, সততা ও রোখ সম্বল করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন মিলখা (Milkha Singh)। ফারহানের পোস্টে লেখা হয়েছে সে কথা। তিনি লেখেন — সত্যটি হলো, আপনি সব সময় বেঁচে থাকবেন। কারণ আপনি একজন মহান, স্নেহশীল, বিনয়ী মানুষেরও বেশি কিছু ছিলেন। আপনি একটি আদর্শের প্রতিভূ। একটি স্বপ্নের প্রতিনিধি। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও রোখে আপনি উঠে দাঁড়িয়ে আকাশ ছুঁয়েছিলেন।
ফারহান (Farhan Akhtar) আরও লেখেন — আপনাকে যারা পিতা বা বন্ধু হিসাবে চেনে, তারা ধন্য। আর যারা চেনে না, তাদের কাছে আপনার জীবন এক অনুপ্রেরণা। সাফল্যেও বিনয়ের প্রতিমূর্তি। আমি আপনাকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি।
বিখ্যাত ক্রীড়াবিদের বায়োপিক ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এ মিলখার ভূমিকায় ছিলেন ফারহান। ২০১৩-য় রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার ওই ছবি রিলিজ করে। যা বক্স অফিসেও ভালো সাড়া পায়।
১৯২৯-এর ২০ নভেম্বর গোবিন্দপুরার একটি শিখ পরিবারে জন্ম মিলখার। সেই শহর বর্তমানে পাকিস্তানের মুজফ্ফরগড় জেলায় জেলায় পড়ছে। মিলখারা ছিলেন ১৫ ভাইবোন। দেশভাগের আগেই মৃত্যু হয় আট জনের। দেশভাগের সময় উন্মত্ত জনতার হাতে খুন হন তাঁর বাবা-মা, এক ভাই ও দুই বোন।
তার পরে কখনও দিল্লির উদ্বাস্তু শিবিরে থেকেছেন। কখনও বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য দিন কেটেছে জেলে। ভাইকে ছাড়াতে সেই সময় গয়না বিক্রি করেছিলেন দিদি ঈশ্বর। দিদির বাড়িতেও ক’দিন থাকেন।
এক সময় জীবনের প্রতি সমস্ত ভালোবাসা চলে যায়। ঠিক করেন, ডাকাত হবেন। কিন্তু ভাই মলখন তাঁকে আটকান। তাঁর অনুপ্রেরণায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা শুরু মিলখার (Milkha Singh)। চার বারের চেষ্টায় অবশেষে ১৯৫১-য় বাহিনীতে প্রবেশ। এবং তার পিছনেও এক গল্প।
এক রেসে অংশ নিতে হয় মিলখাকে। রেসের সঙ্গে সেই প্রথম পরিচয়। সেনা কোচ গুরুদেব সিং বলেছিলেন, প্রথম দশে থাকলে এক গ্লাস অতিরিক্ত দুধ দেওয়া হবে। ষষ্ঠ হয়ে দুধ আর সেনায় প্রবেশের ছাড়পত্র আদায় করেছিলেন মিলখা।
আর ১৯৫০-এর শেষ, ১৯৬০-এর শুরুর সময়টায় দেশ তখন নেহাতই শিশু। স্টারডম কাকে বলে, প্রথম চেনালেন মিলখা। মাত্র ০.১ সেকেন্ডের জন্য ১৯৬০-এর অলিম্পিক্সে পদক মেলেনি। কিন্তু তারপরে মিলখা যা করেছেন, তার সঙ্গে আজও কোনও ক্রীড়াবিদের সাফল্যের তুলনা চলে না।
এশিয়ান গেমসে চারটি গোল্ড মেডেল জেতেন। ভারতের হয়ে কমনওয়েলথে প্রথম সোনা মিলখার। সেই স্বীকৃতিতে আনন্দাশ্রু ফেলেছিল গোটা দেশ। একদিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top