জীবনের প্রথম স্ট্রেট সেটে পরাজয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উইম্বলডন থেকে বিদায় ফেডেরারের

Roger-federar-loses-out-to-Hubert-Hurkacz.jpg

Onlooker desk: কোয়ার্টার ফাইনালে স্ট্রেট সেটে হেরে উইম্বলডন থেকে বিদায় নিলেন রজার ফেডেরার। পোল্যান্ডের হাবার্ট হারকাজের কাছে বুধবার পরাজিত হন সুইস টেনিস তারকা। ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম খেতাবজয়ী ফেডেরারের আগামী মাসে ৪০ হবে। ২৪ বছরের হারকাজের কাছে এ দিন ৬-৩, ৭-৬, ৬-০ তে পরাজিত হন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়। সম্ভবত এটাই তাঁর শেষ উইম্বলডন।
আট বার উইম্বলডন জিতেছেন ফেডেরার। ১১৯টি ম্যাচ খেলেছেন টুর্নামেন্টে। এটি তাঁর ১৪ তম পরাজয়। এবং ২০০২-এ কেরিয়ার শুরু পর এই প্রথম স্ট্রেট সেটে হারলেন তিনি।
এ দিনের ম্যাচের পর উইম্বলডনের তরফে দু’টি টুইট করা হয়। একটিতে লেখা হয় — হাবার্ট হারকাজ তাঁর আইডল, আট বারের চ্যাম্পিয়ন রজার ফেডেরারকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম সেমিফাইনালে প্রবেশ করলেন। এর সঙ্গে হারকাজের ছবি।
দ্বিতীয়টি ফেডেরারকে নিয়ে। তাঁর মাঠ ছাড়ার ভিডিয়ো দিয়ে। সঙ্গে লেখা — ২২ বছরের স্মৃতির স্বীকৃতি। আমরা ধন্য রজার ফেডেরার।
জয়ের পরে হারকাজ বলেন, ‘রজারের সঙ্গে এখানে খেলাটা সুপার স্পেশ্যাল। স্বপ্নপূরণ। এখানে উনি কত বিশেষ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
ওয়ার্ল্ড নম্বর ১৮-র হারকাজ এর আগে কোনও গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে প্রবেশ করেননি। তবে এ বার শেষ ১৬-তে ওয়ার্ল্ড নম্বর ২ দানিল মেদভেদেভকে পাঁচ সেটে পরাজিত করে বেশ চাঙ্গা ছিলেন হারকাজ। প্রথম থেকেই দৃশ্যত কাবু ফেডেরারের তুলনায় কয়েক কদম এগিয়ে ছিলেন তিনি।
গত বছরই দু’টি হাঁটুর অপারেশন হয় ফেডেরারের। সেই সঙ্গে বয়সও প্রায় ৪০। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও হারকাজের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারেননি তারকা খেলোয়াড়। দ্বিতীয় সেটে ১-৪ থেকে সপ্তম গেমে টাইব্রেকারের পর খেলা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেন হারকাজ।
ফেডেরারের শরীর যে সমর্থন করছে না, সেটা এ দিন তাঁর খেলা দেখেই মালুম হয়। মাত্র ২৯ মিনিটে তৃতীয় সেটের ফল নিশ্চিত করে ফেলেন হারকাজ।
হারকাজ হলেন পোল্যান্ডের দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পৌঁছলেন। এর আগে, ২০১৩-য় পৌঁছেছিলেন জার্জি জ্যানোউইজ।
সেমিফাইনালে তাঁকে ইটালির ম্যাটেও বেরেত্তিনি বা কানাডার ফেলিক্স অগার-অ্যালিয়াসিমের মুখোমুখি হতে হবে। আগামী রবিবার উইম্বলডনের ফাইনাল।
অবসরপ্রাপ্ত টেনিস তারকা বরিস বেকার বলেন, ‘খেলার মিস-হিট দেখলাম। রজার যে রকম অবিশ্বাস্য ভাবে পয়েন্ট দিলেন, দেখলাম। এবং শেষের ৬-০ সেটও দেখলাম। ও নিজেও এ সবে একটু রেগে গিয়েছিল কি না, সেটা কোনও দিনই বলবে না। তবে এই মহান খেলোয়াড়কে আর হয়তো আমরা এখানে দেখব না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top