১ লক্ষ ৬০ হাজার কন্ডোম, ‘শক্তপোক্ত’ খাটে ‘প্রস্তুত’ অলিম্পিক্স গেমস ভিলেজ

sturdy-beds-in-Olympics.jpg

খেলোয়াড়দের জন্য এই বিছানাই রাখা হয়েছে অলিম্পিক্স গেমস ভিলেজে

Onlooker desk: একের পর এক করোনা সংক্রমণ নিয়ে অস্বস্তি তো আছেই। এরই মধ্যে অলিম্পিক্সের (Olympics) নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খাট। হ্যাঁ, খাট। গেমস ভিলেজে যে খাটগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি কি যথেষ্ট পোক্ত? মানে চাইলে কি নির্বিঘ্নে যৌনসঙ্গম করা যাবে?
সোমবার উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, খাটগুলি যথেষ্ট শক্তিশালী। সেগুলি কার্ডবোর্ডের তৈরি। আইরিশ জিমন্যাস্ট রাইস ম্যাকলেনাঘান একটি খাটের উপর বেশ ক’বার লাফালাফি করে দেখিয়েছেন, তা কতখানি পোক্ত। সেই ভিডিয়ো টুইটারে পোস্ট করেন রাইস। লেখেন — খাটগুলি যৌনসঙ্গমের উপযুক্ত নয়। সেগুলো কার্ডবোর্ডের তৈরি এবং আচমকা নড়াচড়া করলেই ভেঙে পড়বে। এ সব একেবারে ভিত্তিহীন, ভুল খবর!
অলিম্পিক্সের (Olympics) উদ্যোক্তারা এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে তাঁরা লেখেন, মিথ্যার পর্দা ফাঁস করার জন্য ম্যাকলেনাঘানকে ধন্যবাদ। খাটগুলি পোক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী।
কিন্তু এত বিতর্ক কেন খাট নিয়ে? কারণ নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি রিপোর্ট। সেখানে লেখা হয়, করোনার যুগে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ইচ্ছে করে কম পোক্ত খাট তৈরি করা হয়েছে গেমস ভিলেজে। তারও নেপথ্যে রয়েছে আর এক কাহিনি। মার্কিন দৌড়বীর পল চেলিমো রসিকতা করে লেখেন, কার্ডবোর্ডের খাট তৈরি করা হয়েছে অ্যাথলিটদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা এড়াতে। একাধিক ব্যক্তির ওজন খাটগুলি নিতে পারবে না, এমন ইঙ্গিতও টুইটে দেন তিনি।
খাট নিয়ে খটাখটি অবশ্য এই প্রথম নয়। এ বছরের গোড়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় অ্যান্ড্রু বোগাট। শয্যা তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারার এয়ারউইভ। তারা জানিয়েছেন, এক একটি শয্যা ২০০ কিলো বা ৪৪০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন নিতে সক্ষম। অত্যন্ত কড়া ভাবে খাটগুলির শক্তি পরীক্ষা হয় বলেও এয়ারউইভ জানিয়েছিল জানুয়ারি মাসে।
সংস্থার এক মুখপাত্র এএফপি-কে বলেছিলেন, ‘আমরা নানা পরীক্ষা করেছি। খাটের উপরে ভারী বস্তু ফেলেও দেখা হয়েছে। দু’জনের ওজন অনায়াসে বহন করতে পারবে এক একটি শয্যা।’ তবে তার বেশি হলে যে চাপ হবে, সে ইঙ্গিত খানিক দিয়েই রেখেছিলেন ওই মুখপাত্র।
করোনার কারণে এক বছর পিছিয়ে গিয়েছে অলিম্পিক্স (Olympics)। গত বছর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা পিছিয়ে হচ্ছে এ বছর। আগামী শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গেমস ভিলেজে সাড়ে ছ’হাজারেরও বেশি মানুষের একসঙ্গে থাকার কথা। সংক্রমণ যাতে কোনও ভাবেই ছড়িয়ে না-পড়ে, সে জন্য কোনও ফাঁক রাখতে রাজি নন উদ্যোক্তারা। তবু প্রায় রোজই মিলছে করোনার খবর।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপরে জোর দিচ্ছেন তাঁরা। তবু যে সকলের উপরে বিশেষ আস্থা রাখতে পারছেন, তা নয়। এই অতিমারীকালেও ১ লক্ষ ৬০ হাজার কন্ডোম বিলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক্স (Olympics) আয়োজক কমিটি।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top