বায়ো বাবলে ক্রিকেটাররা, বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো নয় তো?

CRICKET.jpeg

Onlooker desk: বায়ো বাবল। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, জৈব সুরক্ষা বলয়। খেলার সঙ্গে একটু পরিচয় থাকা মানুষজনের কাছে এটা এখন আর নতুন কোনও শব্দ নয়। আইপিএল এবং আইএসএলের সৌজন্যে মোটামুটি কর্পোরেট থেকে রান্নাঘর, সবাই এখন জেনে নিয়েছেন এই জৈব সুরক্ষা বলয় খায় না মাথায় দেয়।
এক কথায়, এমন একটা নিরাপত্ত বলয়, যেখান দিয়ে করোনা নামের ভয়াল ভাইরাস ঢুকতে পারবে না। লখিন্দরের বাসরের মতো ছিদ্র দিয়ে আইপিএলের বায়ো বাবলে করোনার প্রবেশ অবশ্য বিষের ছোবল হেনেছে। যার জেরে আইপিএল আপাতত বন্ধ।
এখন প্রশ্ন হল, কী ভাবে নিশ্চিদ্র বলয় ভেদ করে ঢুকে পড়ল এই ভাইরাস? একেবারে ফেলুদা স্টাইলে তদন্ত চালিয়ে বেরিয়ে আসছে, অনেক কারণই।
প্রথমত, বিমান যাত্রা। এক শহর থেকে অন্য শহরে উড়ে যেতে হয়েছে টিমগুলোকে। গতবার আরব আমিরশাহিতে খেলা হয়েছিল, তিনটে শহর দুবাই-শারজা-আবু ধাবিতে। টিমগুলো এক শহর থেকে অন্য শহরে যেত সড়ক পথে, গাড়ি বা বাসে। এ বার বিমানবন্দর বা বিমানে যাতায়াত কোভিড পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে কোচ-ক্রিকেটারদের।
দ্বিতীয়ত, জৈব সুরক্ষা বলয় থেকে ক্রিকেটাররা বেরোতে পারছেন না, হক কথা। কিন্তু ক্রিকেটারদের কাছে যাঁরা আসছেন, তাঁরা অনেকেই এই বলয়ের বাইরে। যেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। সেই মালিকপক্ষের লোকজন কিন্তু টানা সুরক্ষা বলয়ে নেই।
এমনকী সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা-ব্যক্তিরাও কিন্তু থাকছেন না বলয়ে। অথচ স্টেডিয়ামে তাঁদের অবাধ বিচরণ। এটা ঠিক, তাঁরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে গা ঘষাঘষি করেননি। শুধু সেটাই তো করোনা না হওয়ার আবশ্যিক শর্ত নয়। অতএব তাদের মাধ্যমে ড্যাং ড্যাং করে করোনা বাবাজির বলয়ে প্রবেশের কোথাও নেই তো মানা!
মাঠকর্মীদের একই অবস্থা। তাঁরা অক্লান্ত খেটে কাজ করেন। কিন্তু সেই মাঠকর্মীরা যে সারাক্ষণ বলয়ের মধ্যেই রয়েছেন এমন তো নয়। অনেকেই অনেক সময় স্টেডিয়ামের বাইরে যান ব্যক্তিগত কাজে।
আবার যাঁরা টিম বাস চালান, সেই চালকও তো এসেছেন বলয়ের বাইরে থেকে। এমনও শোনা গেল, কোনও কোনও টিমের প্র্যাক্টিস গ্রাউন্ডে সাধারণ দর্শকরাও ভিড় করেছিলেন। এমনকী পুলিশ বা যে নিরাপত্তা কর্মীরা আইপিএলে কাজ করেছেন, তাঁরাও বলয় বহির্ভূত।
এক কথায় বোঝাতে গেলে সেই বহু ব্যবহারে ক্লিশে প্রবাদটাই ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেটা কী? কী আবার, ‘বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top