ভাইরাস ধ্বংসকারী মাস্ক তৈরি করে বিশ্বে স্বীকৃত মেমারির ‘কন্যাশ্রী’

DIGANTIKA.jpg

নিজের তৈরি মাস্ক নিয়ে দিগন্তিকা — প্রতিবেদক

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: গত বুধবার তৃতীয় বারের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দু’দিনের মধ্যে এক ‘কন্যাশ্রী’র হাত ধরে বাংলার মুকুটে জুড়ল সাফল্যের নতুন পালক।
মেমারির বাসিন্দা, স্কুলছাত্রী দিগন্তিকা বসু ‘ভাইরাস ধ্বংসকারী মাস্ক’ তৈরি করেছেন। ‘গুগল’ বিশ্বের সেরা ১০ অনুপ্রেরণামূলক ডিজাইনে স্থান করে নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের এই কন্যাশ্রী কন্যার আবিষ্কার। দিগন্তিকার এই সাফল্যে উল্লসিত মেমারির বিধায়ক মুধুসূদন ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা। ছাত্রীর বাড়ির লোক তো গর্বিত বটেই। মধুসূদন জানান, বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে দিগন্তিকাকে সংবর্ধনা জানানো হবে।

দিগন্তিকা বসু

মেমারি শহরের সুলতানপুর এলাকায় বাড়ি দিগন্তিকার। মেমারির বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরে (শাখা -২) দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে সে। বিজ্ঞানের ১১টি নতুন বিষয় নিয়ে নানা আবিষ্কার করেছে ১৭ বছরের কিশোরী। সে জন্য রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্তরে সমাদৃত হয়েছে দিগন্তিকা। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকেও পুরস্কার নিয়েছে সে।
পুরস্কার-স্বীকৃতিতে খুশি হলেও কিশোরী অবশ্য আত্মতুষ্ট হয়নি। বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে তার গবেষণা থামেনি। করোনা সংক্রমণের হাত থেকে মানুষকে কী ভাবে বাঁচানো যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে মেমারির এই ‘কন্যাশ্রী’ কন্যা। উদ্ভাবন করে ‘ভাইরাস ধ্বংসকারী মাস্ক’। স্থির চিত্র ও ভিডিয়ো হিসাবে তা স্থান করে নিয়েছে ‘গুগল’-এর বিশ্বসেরার একটি অনলাইন মিউজিয়ামে।
দিগন্তিকার বাবা সুদীপ্ত বসু জানান, ২০১১-র ফেব্রুয়ারিতে এই ভার্চুয়াল মিউজিয়াম তৈরি করে গুগল। বছরের বিশ্বসেরা ১০ শিল্পকর্ম, কোনও সামগ্রী ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন দেখতে হলে গুগল আর্ট অ্যান্ড কালচার অনলাইন মিউজিয়ামে প্রবেশ করলে দিগন্তিকার আবিষ্কৃত ভাইরাস ডেটারেন্ট মাস্ক ২০২০-র দেখা মিলবে।
তার এই মাস্ক গুগলের মিউজিয়ামে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে মুম্বইয়ে মিউজিয়াম অফ ডিজাইন এক্সেলেন্সের জাদুঘর। বৃহস্পতিবার ‘গুগল’ কর্তৃপক্ষ মাস্কটির মডেল সংরক্ষণ করার কথা জানান। আবিষ্কারক দিগন্তিকার নামও উল্লেখ করা হয় সেখানে। সুদীপ্ত বলেন, ‘গুগল জানিয়েছে, দিগন্তিকার ধুলোমুক্ত এবং ভাইরাস-নিরোধক মাস্কের ডিজাইন প্রোটোটাইপ করা হয়েছে।’ ভাইরাস ধ্বংস করতে, সাবান-জলের এক ধরনের মিশ্রণ মাস্কের ফিল্টারে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই ফিল্টারের মাধ্যমে ধ্বংস হবে ভাইরাস।
তার আবিষ্কার গুগলের মিউজিয়ামে স্থান পাওয়ায় সে যে গর্বিত, তা জানায় দিগন্তিকা। পাশাপাশি, এই উদ্ভাবন বাংলার মুখও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছে ছাত্রীটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top