শহুরে তরুণ প্রজন্মের ৭৩ শতাংশ খবর পড়েন স্মার্টফোনে, ৫৯ শতাংশ চোখ রাখেন টিভিতে

theonlooker24x7.jpg

Onlooker desk: ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ ইউনিভার্সিটি বলে কটাক্ষ করার আগে ভাবুন। বরং হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ফেসবুকে খবর পড়ার প্রবণতা দেশে প্রবল হারে বেড়েছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারত অন্যতম প্রধান মোবাইল-নির্ভর বাজার হিসাবে উঠে এসেছে। ৭৩ শতাংশই খবর পড়েন স্মার্টফোনে। আর এ জন্য ৩৭ শতাংশ ব্যবহার করেন কম্পিউটার।
৬০ কোটিরও বেশি দেশবাসীর কাছে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এবং তার বেশির ভাগটাই মোবাইল ডেটা। একদিকে মোবাইলের দাম কম। অন্যদিকে ডেটার চার্জও কম। দু’য়ের জেরে বেশির ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল ডেটায় নির্ভরশীল। তাই তাঁরা খবরও ফোনে পড়তে বেশি অভ্যস্ত। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউবে খবর পড়েন।
তা হলে খবরের বাকি মাধ্যমগুলি? ৫৯ শতাংশ অংশ গ্রহণকারী জানিয়েছেন তাঁরা টেলিভিশনে খবর দেখেন। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এঁদের অধিকাংশই ইংরেজিতে কথা বলেন। আর ইংরেজি-জানা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮২ শতাংশ খবর জানতে ব্যবহার করেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে।
তবে এ রকম নির্বিচারে সামাজিক মাধ্যমে খবর জানার প্রবণতায় বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। এতে ভুল তথ্য ও ঘৃণা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে।
ভুল তথ্য ছড়ানোয় সবচেয়ে বড় ভূমিকা ফেসবুকের। বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তেই এই প্রবণতা। তবে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুল খবর ছড়ানোয় সবার উপরে রয়েছে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া। রয়টার্স ইনস্টিটিউট অফ জার্নালিজমের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট নিক নিউম্যান রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছেন।
তবে এর মানে এটা নয় যে পুরোনো মাধ্যমগুলি হারিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিক ভাবে, অন্যান্য মাপকাঠি ধরে টেলিভিশনই এখনওসবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম। বিশ্বাসযোগ্যতার দিক দিয়ে সংবাদপত্র টেলিভিশনের চেয়েও এগিয়ে। ডিজিট্যাল নিউজ রিপোর্ট ২০২১-এ জানানো হয়েছে এ কথা। কেন সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি? রিপোর্টে জানানো হয়েছে — টেলিভিশনের খবরে মেরুকরণ ও চাঞ্চল্য তৈরির চেষ্টা অনেক বেশি।
খবরকে অতিরিক্ত মুচমুচে করার প্রবণতা দর্শক বা পাঠক ভালো ভাবে নেন না। সেই ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে। চিরন্তন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের তুলনায় একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের ট্রাস্ট স্কোর অনেক কম। টিআরপি বিতর্কেও সম্প্রতি জড়িয়ে পড়েছিল চ্যানেলটি।
কোন গোষ্ঠীর মানুষের উত্তরের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট? সমীক্ষকরা জানিয়েছেন, অংশ গ্রহণকারীরা মূলত ধনী পরিবারের, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। তাঁদের প্রথাগত শিক্ষার স্তর উঁচু। এঁদের বেশিরভাগই কোনও না কোনও বড় শহরের বাসিন্দা। অথচ দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই থাকে গ্রামে। তাই এঁদের মতামতকে দেশের সামগ্রিক মনোভাব বলা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top