শোয়ার ঘরেও অবাধ বিচরণ সাপের, সেই জ্যান্ত সাপকেই দেবীজ্ঞানে পুজো সাত গ্রামে

Polish_20210725_203003364.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
কারও কাছে পরিচিত ‘ঝাঁকলাই’ নামে। আবার কেউ বলেন ‘ঝঙ্কেশ্বরী’। এমন নানা নামে যাঁর পরিচিতি তিনি আসলে আর কেউ নন, তিনি বিষধর কেউটে প্রজাতির সাপ। বংশ পরম্পরায় প্রতি বছর আষাড় মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে তাঁকেই দেবীজ্ঞানে পুজো (snake worshipped) করে আসছেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও মঙ্গলকোটের সাতটি গ্রামের বাসিন্দারা।
মহা ধুমধাম করে রবিবার দেবী ঝঙ্কেশ্বরীর পুজো হল ভাতারের বড়পোশলা, শিকোত্তর, মুকুন্দপুর এবং মঙ্গলকোটের ছোটপোশলা, পলসোনা, মুশারু এবং নিগন গ্রামে। অতীতে এই সাত গ্রামেই বিশেষ এই প্রজাতির সাপ প্রচুর পরিমাণে দেখা যেত। বর্তমানে ভাতারের বড়পোশলা এবং মঙ্গলকোটের ছোটপোশলা, মুশারু ও পলসোনা গ্রামে কিছু সাপ দেখা যায়। ফলে প্রাচীন রীতি মেনে এই চার গ্রামে জ্যান্ত সাপকেই বিশেষ এই তিথিতে দেবীজ্ঞানে পুজো (snake worshipped) করা হয়। এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, ঝাঁকলাই বিষধর হলেও খুব শান্ত প্রকৃতির। সাধারণত কাউকে কামড়ায় না। আবার কোনও কারণে কাউকে ছোবল মারলে দেবীর মন্দিরের মাটি শরীরে লেপে দিলেই তিনি বিষমুক্ত হয়ে যান। এই বিশ্বাস থেকেই আজও ঝাঁকলাই সাপকে সঙ্গে নিয়েই ঘর করেন চার গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তাঁদের রান্নাঘর থেকে শোবার ঘর এবং গ্রামের মন্দির সর্বত্রই দেখা যায় বিষধর এই সাপকে।
গ্রামগুলিতে এই ঝাঁকলাই সাপ নিয়ে অনেক লোককথা আছে। এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, ঝাঁকলাই আসলে কালনাগিনী। লখিন্দরকে লোহার বাসরঘরে দংশন করার পর পালানোর সময় বেহুলা তাকে লক্ষ করে কাজল লতা ছুড়ে মারেন। কাজল লতার আঘাতে কালনাগিনীর লেজ কেটে যায়। এখানে ঝাঁকলাইয়ের লেজও কাটা।
পলসোনার বাসিন্দা তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পলসোনা গ্রামে একটা ডাঙা আছে। সেই ডাঙার নাম খুনগোর। বেহুলার শাপে কালিয়াদহের কালনাগিনী মর্তে এসে খুনগোর ডাঙায় বসবার করতে শুরু করে। গ্রামের বাসিন্দা মুরারীমোহন চক্রবর্তীকে স্বপ্নাদেশে কালনাগিনী তার পুজো করার কথা জানায়। সেই থেকেই পলসোনা গ্রামে ঝাঁকলাইয়ের পুজো (snake worshipped) হয়ে আসছে।’ তাপস আরও বলেন, ‘ঝাঁকলাইয়ের গায়ের রং কালচে বাদামি। যে সব গ্রামে ঝাঁকলাই সাপ দেখা যায়, সেই গ্রামগুলিতে সচরাচর অন্য কোনও বিষধর সাপ দেখা যায় না। ঝাঁকলাই রাতে বের হয় না। এমনকী এই সাপ এলাকা ছেড়েও অন্য কোথাও যায়ও না।’
ঝাঁকলাই নিয়ে গ্রামের মানুষজনের ধর্মীয় বিশ্বাস যাই থাকুক বিজ্ঞান মঞ্চ বিষয়টিকে অন্য ভাবে দেখতেই আগ্রহী। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের বর্ধমান জেলা কার্যকরী সভাপতি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাপ এমনিতেই ঠান্ডা রক্তের প্রাণী। কোনও কারণ ছাড়া সাপ কামড়ায় না। তাছাড়া ধর্মীয় রীতিনীতির কারণে এখানকার মানুষেরা সাপকে বিরক্ত করেন না। তার কারণে উভয়ের মধ্যে সহাবস্থান তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের ফলে ওইসব গ্রামগুলিতে সাপের কামড়ের ঘটনা খুবই কম। তবে এই সাপের বিষ আছে। কামড়ালে হাসপাতালে যেতে হবে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top