সবচেয়ে বেশি সন্তান আপনার? তা হলে পাবেন ১ লক্ষ, ঘোষণা এই রাজ্যের মন্ত্রীর

IMG-20210622-WA0001.jpg

Onlooker desk: মিজো সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়াতে অভিনব পথ ধরলেন মিজোরামের (Mizoram) এক মন্ত্রী। তাঁর বিধানসভা এলাকায় যে অভিভাবকদের সবচেয়ে বেশি সন্তান, তাঁদের ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। মিজো সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা (Population) বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ঘোষণা রবার্ট রোমাওয়াইয়া রয়টের। তিনি মিজোরামের (Mizoram) ক্রীড়ামন্ত্রী। বিভিন্ন রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নানা পথ ধরছে। আর রবার্ট হাঁটছেন উল্টো পথে।
রবিবার ফাদার্স ডে-তে এই ঘোষণা করেছেন তিনি। তিনি আইজন ইস্ট-২ এর বিধায়কও। সেখানকার অভিভাবকদের জন্য এই বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা। সোমবার বিবৃতি জারি করে রবার্ট জানান, ওই অভিভাবকদের শংসাপত্র এবং ট্রফিও দেওয়া হবে। তবে এই টাকা সরকারি কোষাগার থেকে আসবে না। একটি কনস্ট্রাকশন কনসালট্যান্সি ফার্ম তা দেবে। ওই ফার্ম আবার রবার্টের ছেলের।
মন্ত্রীর মতে, বন্ধ্যাত্বের হার ও মিজো সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা (Population) কমা ক্রমশ উদ্বেগজনক হচ্ছে। রবার্ট বলেন, ‘মিজো জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে। যার ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য যত মানুষের প্রয়োজন, তা থাকছে না। কম জনসংখ্যা (Population)একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মিজোর মতো ছোট সম্প্রদায়ের অগ্রগতি তো বটেই, অস্তিত্বই সঙ্কটে পড়ে যাচ্ছে।’ বহু মিজো গোষ্ঠীর মানুষের বাস মিজোরামে।
তবে রবার্ট একা নন। মিজো জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী আরও অনেকে। কিছু চার্চ, ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনও ‘বেবি বুম’ পলিসি নিচ্ছে। যাতে রাজ্যের আয়তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জনসংখ্যা বাড়ানো যায়।
২০১১-র সেনসাস অনুযায়ী মিজোরামের (Mizoram) জনসংখ্যা ১০ লক্ষ ৯১ হাজার ১৪। রাজ্যের আয়তন ২১, ০৮৭ বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ৫২ জনের বাস। জনঘনত্বের বিচারে দেশে মিজোরামের পরে রয়েছে কেবল অরুণাচল প্রদেশ। সেখানে এক বর্গ কিলোমিটারে ১৭ জনের বাস। যেখানে দেশের গড় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৮২।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি একটি ঘোষণা করেছেন। কিছু স্কিমে সুবিধা পেতে অন্তত দু’টি সন্তান থাকা বাধ্যতামূলক হচ্ছে অসমে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ২০১৯-এ একটি ঘোষণা করে রাজ্য। দু’টির বেশি সন্তান থাকলে এ বছরের জানুয়ারি থেকে আর সরকারি চাকরিতে থাকা যাবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম। রবিবার উত্তর প্রদেশের ল কমিশনের চেয়ারম্যানও জনসংখ্যা (Population) নিয়ন্ত্রণে জোর দেন।
তবে পপুলেশন ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ ব্যাপারে চিনের উদাহরণ দিচ্ছে। তাদের মতে জোর করে নয়। বরং মহিলাদের শিক্ষিত করে ও কাজে উৎসাহী করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top