১৫ হাতির হেঁটে চলায় বুঁদ নেটদুনিয়া, গুটিসুটি দিয়ে ঘুমের ছবিও মন কাড়ল বিশ্বের

China-herd-of-elephants.jpg

Onlooker desk: অন্তত এক ডজন ড্রোন দিনভর তাদের উপরে নজর রাখে। যেখানেই যায়, সঙ্গে থাকে পুলিশ। আর যখন খায় বা ঘুমোয়, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের দেখে। আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখে — ওদের ঠান্ডা লেগে যাবে তো! একটা লেপের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হতো।
গত এক সপ্তাহ ধরে চিনের নতুন ‘অনলাইন সেনসেশন’ একপাল হাতি। গত ১৫ মাস ধরে তারা হেঁটেই চলেছে আর ঘটাচ্ছে নানাবিধ বিপত্তি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ জুড়ে ঘুরে বেড়ানো হাতির দল নিয়ে চিনের আমোদের শেষ নেই। সম্প্রতি জঙ্গলে ঘেরা এক জায়গায় তাদের দল বেঁধে ঘুমোতে দেখা গিয়েছেন। একে অন্যের গা ঘেঁষে নিশ্চিন্ত নিদ্রার সেই ছবি চিনের তো বটেই, মন কেড়েছে বহু মানুষের। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি শেষে এই বিশ্রাম তাদের প্রাপ্য, এমন বার্তায় ছেয়ে গিয়েছে ইন্টারনেট।
গত বছর দক্ষিণ চিনের একটি সংরক্ষিত এলাকা থেকে পালিয়ে যায় হাতির দলটি। তাদের গতিবিধির লাইভ স্ট্রিমিং হয়। হাঁ করে তা দেখেন নেট নাগরিকরা। শস্যখেতের উপর দিয়ে ফসলের ক্ষতি করে তারা বীরদর্পে হেঁটে চলে, ছোট ছোট শহরে তাণ্ডব চালায়, ভয়ে এলাকাবাসী বেরোতে পারেন না, সবই দেখা যায় ইন্টারনেটে। এ পর্যন্ত ১০ লক্ষ ডলারেরও বেশি অঙ্কের ক্ষতি করেছে গজরাজের দল।
দলটির মধ্যে আবার কেউ কেউ একটু বেশি বিখ্যাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হাতির তিন ছানা। তার মধ্যে একটা আবার এই যাত্রাপথেই জন্মেছে।
উনান প্রদেশের কুনমিংয়ের কাছে দলটির বিশ্রামের সময় একটি বড় হাতির শরীরের তলার কোনও ভাবে ঢুকে পড়েছিল একটি ছানা। সেই ভিডিয়ো দেখেছেন ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। একটায় দেখা যাচ্ছে তিন ছানা দলের পিছু পিছু টলমল করে হেঁটে চলেছে খেত পেরিয়ে। অন্য একটা আরও মজার, সেখানে আবার জল খেতে গিয়ে পুকুরেই উল্টে গিয়েছে তিন ছানার একটি।
এমনই এদের জনপ্রিয়তা যে ইন্টারনেট তারকারাও চ্যালেঞ্জের মুখে। অবস্থা এমনই যে হাতির দলের এঁটো ভুট্টা বা আনারস খেয়ে ভিডিয়ো বানিয়ে ইন্টারনেটে তা পোস্ট করে দর্শক টানার চেষ্টা করছেন অনেকে।
তবে কেন ওই দলটি নিজেদের সংরক্ষিত এলাকা থেকে পালিয়েছিল, তা পরিষ্কার নয়। তবে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান সঙ্কুচিত হয়ে পড়ার ফলেই এমন কাণ্ড বলে মনে করছেন বায়োলজিস্টরা। এই ঘটনা নেট নাগরিকদের যতই আমোদ দিক না কেন, বিশেষজ্ঞরা একে ‘অ্যালার্ম’ হিসাবেই দেখছেন। চিনে এশিয়ান এলিফেন্ট সংরক্ষিত প্রজাতির প্রাণী। উনানে এমন শ’তিনেক হাতি আছে বলে একটি সূত্রের খবর।
বন দপ্তর হাতিগুলিকে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। মে-র শেষে ২৪ ঘণ্টা তাদের উপর নজরদারির জন্য একটি কম্যান্ডার সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে হাতির স্বাভাবিক বাসস্থান বৃদ্ধিই একমাত্র পথ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top