না-খেতে পাওয়া অখ্যাত গ্রামকে ‘মডেল’ করে তোলা এক নারীর গল্প

Kutenpadar-Banadei-Majhi.jpg

Onlooker desk: বছর চল্লিশেক আগে অনাহার ছিল কুটেনপাদার (Kutenpadar) গ্রামের নিত্যসঙ্গী। সেটা ’৮০-র দশক। অখ্যাত গ্রামের মানুষদের জীবনটা খেতে পাওয়া আর না-খেতে পেয়ে মৃত্যুর মাঝে সরু সুতোয় ঝুলত। ওডিশার কালাহান্ডির সেই কুটেনপাদারই (Kutenpadar) এখন একটি আদর্শ গ্রাম। নায়ী ক্ষমতায়নের প্রতীকও।
আশপাশে জঙ্গল থাকায় সেখান সামগ্রী সংগ্রহ করে কোনওমতে জীবন চালাতেন গ্রামের বাসিন্দারা। আর আজ বছর ৪৫-এর আদিবাসী মহিলা বানাদেই মাঝিকে (Banadei Majhi) ধন্যবাদ জানান তাঁরা। কারণ বানাদেই বা মাশরুম মা-এর হাত ধরে কুটেনপাদারের (Kutenpadar) খোলনলচে বদলে গিয়েছে। বদলেছে বাসিন্দাদের জীবনও।
এই যাত্রাপথের সূচনা বছর ১৪ আগে, ২০০৭-০৮ এ। নাবার্ডের একটি ক্যাম্পে খড়ের দাগায় মাশরুম চাষের পদ্ধতি শেখেন বানাদেই। তার মাধ্যমেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করতে বদ্ধপরিকর এই মহিলার হাত ধরে গোটা গ্রামে বিপ্লব আসে।
সম্পত্তি বলতে দু’একর সরকারি জমি। যেখানে কেবল জোয়ার, বাজরা, রাগির মতো শস্য চাষ করা যায়। সংসারে স্বামী ও চার সন্তান। দিনে দু’বেলা খাবার জোটাতে তাঁদেরও ভরসা জঙ্গল বা দিনমজুরি।
তার ফাঁকে মাশরুম চাষ। দু’বছরের প্রশিক্ষণ ও ট্রায়ালের পর একক ভাবে চাষ শুরু করেন বানাদেই (Banadei Majhi)। তা থেকেই ধীরে ধীরে রোল মডেল হয়ে ওঠা। বানাদেই (Banadei Majhi) বলেন, ‘জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে আমি নেট ১ লক্ষ টাকা লাভ করি।’ এ ছাড়া ওই দু’একরে সব্জি, তৈলবীজ, ডাল চাষ করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয় তাঁর।
২০১০ সালে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনেন। এখন ওই পরিবারের কাছে ৪৫টি ছাগল। স্বামী জগবন্ধু ও মেয়ে যাজ্ঞসেনী দৈনন্দিন কাজে বানাদেইকে সাহায্য করেন। এক মেয়ের বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দুই ছেলে কলেজে পড়ছেন।
উৎপন্ন সামগ্রী বাজারজাত করার জন্য স্বামী একটি মোটরবাইক কিনেছেন। পাশাপাশি বানাদেই তৈরি করছেন পাকা বাড়ি। আশপাশের ১০টি গ্রামের মহিলারা তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন।
তাঁদের এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের আরও ৫০টি পরিবার মাশরুম ও সব্জি চাষ শুরু করেছে। তারাও ৫০ হাজারের আশপাশে রোজগার করছে।
২০১০-এই নাবার্ড বানাদেইকে (Banadei Majhi) মাশরুম চাষে অবদান ও নারী ক্ষমতায়নের জন্য পুরস্কৃত করে। তাঁর গ্রামকে সম্প্রতি মাশরুম গ্রাম হিসাবে ঘোষণা করেছে নাবার্ড।
কুটেনপাদার (Kutenpadar) গ্রামে ৫৫টি পরিবারের ৪০টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের। এক সময়ে অনাহারে কাটানো গ্রামে এখন ৩৫টি বাইক। সব উঠোনে ভাত ফোটার গন্ধ আর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দৃশ্য। রাজু মাঝি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘বানাদেইয়ের কাছ থেকে আমরা মাশরুম চাষের পদ্ধতি শিখেছি। এখন তা থেকে ভালোই আয় হয়।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top