চাকমা-হাজংদেরও নাগরিকত্ব দিন, শাহকে চিঠি অরুণাচলের ছাত্র সংগঠনের

CHAKMA-HAJONG.jpg

Onlooker desk: পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া ইস্যু জ্বলজ্বলে। এ বার চাকমা-হাজং জনজাতির ৪ হাজার ৬২৭ জনকে নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি পাঠাল চাকমাদের শীর্ষ ছাত্র সংগঠন আপসু (অরুণাচল প্রদেশ চাকমা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন)। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন-বদ্ধ-পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য গুজরাট-রাজস্থান-ছত্তিসগড়-হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের ১৩টি জেলার আধিকারিকদের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। তার পরেই ইমেলে আপসু-র ওই আবেদন।
সেখানে তারা জানিয়েছে, ধর্মীয় হানাহানির হাত থেকে বাঁচতে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬-র মধ্যে ১৪ হাজার হিন্দু-বৌদ্ধ চাকমা-হাজং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্ট থেকে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে তাঁদের জন্য আর্থিক অনুদান, পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও জমির ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৬-এর জানুয়ারিতে একটি নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৫-এর সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের ভিত্তিতে চাকমা-হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে। ২০১৫-তেও একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বাকি থাকা ৪,৬২৭ জন চাকমা-হাজংকে তিন মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার উপরে জোর দেয়।
আপসু-র সভাপতি দৃশ্য মুনি চাকমা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশ এখনও কার্যকর হয়নি। একের পর এক কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, মতুয়াদের নাগরিকত্বের বিষয়েও এখনও কিছু হয়নি। ক্ষোভ দানা বেধেছে তাঁদের মধ্যেও।
এই পরিস্থিতিতে শাহের কাছে আপসু-র আবেদন অবিলম্বে চাকমাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। ভোটাধিকার ও কেন্দ্র-রাজ্যের জনকল্যাণ প্রকল্পে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
দৃশ্য মুনি বলেন, ‘অক্টোবর ২০২০-র আগে চাকমা-হাজংদের এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে দু’বছর আগে আশ্বস্ত করেছিলেন শাহ। কিন্তু এখনও ৪,৬২৭ জনের নাগরিকত্ব হলো না।’ ২০১১-র জনসুমারি অনুযায়ী, অরুণাচলে বর্তমানে ৪৭ হাজার ৪৭১ জন চাকমা-হাজং জনজাতির মানুষ রয়েছেন। বাকিরা জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক হলেও বাদ থেকে গিয়েছেন ওই ৪।৬২৭ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top