কাল সূর্যগ্রহণ। ভারতে ‘রিং অফ ফায়ার’ কোথায় দেখা যাবে? জেনে নিন

ring-of-fire.jpg

আগামী কাল এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে ভারতের একাংশ

Onlooker desk: কাল, বৃহস্পতিবার এ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। ভারতে অবশ্য কেবল লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশে সূর্যাস্তের আগে কয়েক মিনিটের জন্য তা দেখা যাবে। কিন্তু উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে সূর্যগ্রহণের ‘রিং অফ ফায়ার’ দেখা যাবে অনেকক্ষণ ধরে ও স্পষ্ট ভাবে। যদিও অনেক এলাকায় আংশিক গ্রহণও চোখে পড়বে।
সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী এক সরলরেখায় চলে এলে সূর্যগ্রহণ হয়। অর্থাৎ চাঁদ সূর্যকে আড়াল করে দেয়। কিন্তু ডিম্বাকৃতি কক্ষপক্ষের জন্য চাঁদের ছায়া সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলতে পারে না। মাঝের অংশকে আড়াল করে দিয়ে চারপাশ থেকে দেখা যায় ‘রিং অফ ফায়ার’। সেটাই দেখা যাবে কাল।
এমপি বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের অধিকর্তা দেবীপ্রসাদ দুয়ারি জানিয়েছেন, কেবল অরুণাচল ও লাদাখ থেকে গ্রহণ দেখা যাবে বলে ভারতের বড় অংশের নাগরিককেই এই দৃশ্য থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে। তা ছাড়া অরুণাচলে সূর্যাস্তের ঠিক আগে এই দৃশ্য দেখা যাবে বড়জোর ৩ থেকে ৪ মিনিটের জন্য। সেখানে কাল বিকেল ৫টা ৫২ নাগাদ দিবাং ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির আশপাশের মানুষ ‘রিং অফ ফায়ার’ দেখতে পাবেন।
লাদাখেও সামান্য সময়ের জন্য এর দেখা মিলবে। দুয়ারি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘উত্তর সীমান্ত বরাবর লাদাখের খুব সীমিত এলাকার বাসিন্দারা গ্রহণের একেবারে শেষ পর্যায়টি দেখতে পাবেন। তা-ও অনেকটা উচ্চতার গ্রামে এর দেখা মিলবে।’


ভারতীয় সময় বেলা ১১টা ৪২-এ শুরু হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। সব মিলিয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ পর্যন্ত। পৃথিবী জুড়েই গ্রহণের সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করছে বিভিন্ন সংগঠন।
‘রিং এক্লিপস’ নামে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত বিখ্যাত হয়ে ওঠা এই আসন্ন সূর্যগ্রহণ নিয়ে নানা প্রান্তের মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। চাঁদের কালো চাকতির চারপাশ দিয়ে উজ্জ্বল সূর্যের বলয় দেখতে আগ্রহও প্রবল।
কালকের এই গ্রহণ হলো অ্যানুলার এক্লিপস। পূর্ণগ্রহণের থেকে তা আলাদা। এ ক্ষেত্রে চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব হয় সবচেয়ে বেশি। যে কারণে চাঁদকে অনেকটা ছোট দেখায়। সে জন্য তা সূর্যকে পুরোপুরি আড়াল করতে পারে না। চারপাশ দিয়ে দেখা যায় সূর্যের উজ্জ্বল বলয়। অনেকটা বেশি এলাকা জুড়ে চাঁদ-সূর্য-পৃথিবীর এই লুকোচুরি খেলা দেখা যায়। আর পূর্ণগ্রহণের ক্ষেত্রে চাঁদের ছায়া সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়। চাঁদের ঠিক কেন্দ্রস্থলে পৃথিবীর যে এলাকাগুলি পড়ে, কেবল সেখান থেকেই এই গ্রহণের দেখা মেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top