৫০০ টাকা কবে পাব, প্রশ্ন ট্রেন বন্ধে কাজ হারানো গৃহ পরিচারিকাদের

MAMATA-TRAIN.jpg

Onlooker desk: গত বছর দীর্ঘ লকডাউনে কাজ হারিয়েছিলেন শহরতলি থেকে কলকাতায় আসা হাজার হাজার গৃহ পরিচারিকা। সে সময় দু’বেলা দু’মুঠো খেতে গিয়ে সামান্য সঞ্চয়টুকু শেষ। আর কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আবার লোকাল ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাতে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে ফের কাজ বন্ধ তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে কাজ হারানো পরিচারিকাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেটুকুই এখন একমাত্র সম্বল। তাই যত দ্রুত সম্ভব তা চালু করার আর্জি জানাচ্ছেন তাঁরা।
বুধবার তৃতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই রাজভবন থেকে নবান্নে গিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই কোভিড মোকাবিলায় লোকাল ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। ট্রেন বন্ধের কথা শোনার পর থেকেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে কলকাতা শহরের আশপাশ থেকে প্রতিদিন কাজ করতে আসা হাজার হাজার পরিচারিকার। ক্যানিং শাখার তালদির বাসিন্দা দোলন দাস বলেন, ‘গতকাল কাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় খবরটা জানতে পারি। আজ থেকে কাজে যাওয়া বন্ধ। সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই। কী ভাবে পেট চলবে জানি না। তাছাড়া বার বার কাজ বন্ধ হয়ে গেলে যে সব বাড়িতে কাজ করি তারাও অন্য লোক ধরে নেবে। জানি না কী হবে।’ উত্তর ২৪ পরগনার বীরা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে রোজ দমদমে কাজে আসেন শিপ্রা ধারা। তিনি বলেন, ‘আগের সামন্য সঞ্চয়ের সবটুকু শেষ। তাছাড়া তখন অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পাশে দাঁড়িয়ে চাল-ডাল দিয়েছিল। কিন্তু কার কত আছে যে বারবার আমাদের খাওয়াবে। কাজে না গেলে কোভিড থেকে বাঁচব কিন্তু না খেতে পেয়ে তো মরে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগে তো দিদি বলেছিলেন মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা করে দেবেন। জানি সেটা দিতে গেলে তো একটু সময় লাগবেই। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ওই টাকাটাই আমাদের কাছে অনেক। দিদি যদি সেটা চালু করে দেন খুব উপকার হয়।’
গৃহ পরিচারিকাদের একটি সংগঠন, পশ্চিমবঙ্গ গৃহপরিচারিকা সমিতির তরফে স্বপ্না ত্রিপাঠী অবশ্য বলেন, ‘এপ্রিলের ২৫ তারিখের পর থেকে সংক্রমণের ভয়ে কলকাতার বহু বাসিন্দাও কাজ হারিয়েছেন। তৃণমূল ৫০০ টাকা করে দেবে বলেছে ঠিকই। কিন্তু ওতে আর কী হবে। আমরা তিন হাজার করে দাবি করছি। আগামী সপ্তাহে দাবিপত্র জমা দেব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top