কেন্দ্রের জোগান অপ্রতুল, কাল সার্বিক টিকাকরণ শুরু নয় রাজ্যে

CORONA-VACCINE.jpg

কলকাতা: কথা ছিল কাল, সোমবার শুরু হবে ১৮ ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ (vaccination)। ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কথা ঘোষণা করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু রবিবার রাজ্য সরকার জানাল, পশ্চিমবঙ্গে ১৮ ঊর্ধ্বদের সামগ্রিক টিকাকরণ শুরু হচ্ছে না কাল। কারণ টিকার জোগান পর্যাপ্ত নয়। সে কারণে সামগ্রিক ভাবে সকলের টিকাকরণ (vaccination) হবে না রাজ্যে। তার বদলে ‘প্রাধান্যে’র ভিত্তিতে দেওয়া হবে টিকা।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (West Bengal Government) এক আধিকারিক এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘১৮+ গ্রুপে সকলক টিকা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জোগান নেই।’ আর ‘প্রাধান্য’ কাদের দেওয়া হবে? এঁদের মধ্যে আছেন বাস কন্ডাক্টর, চালক, হকার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারের লোক। তবে কেবল টিকার টানাটানি নয়। সকলের টিকাকরণের পথে না-হাঁটার অন্য কারণও রয়েছে। সামগ্রিক ভাবে সকলকে ডাকা হলে ভিড়ভাট্টার আশঙ্কা। যার জেরে আবার নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়।
রাজ্যের পরিকাঠামো পর্যাপ্ত। তাতে একদিনে ৫ লক্ষ পর্যন্ত বাসিন্দাকে টিকা দেওয়া সম্ভব। এমনিতেই দিনে ২ লক্ষের উপর টিকাকরণ চলছে রাজ্যজুড়ে। রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) বক্তব্য, সেটাকে আরও তিন লক্ষ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। সে জন্য টিকাকরণ (vaccination) কেন্দ্র বা কর্মীর সংখ্যা বিশেষ বাড়ানোর দরকার নেই। ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস তেমনটাই জানাচ্ছে।
বহু দেশ তার নাগরিকদের বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছে। তা হলে নরেন্দ্র মোদী সরকার কী করছে, সে প্রশ্নে সরব হয় বিরোধীরা। সুপ্রিম কোর্টের জোরালো প্রশ্ন, ভর্ৎসনার মুখেও পড়ে কেন্দ্র। যার জেরে খানিকটা চাপে পড়ে মোদী সরকার। তারপর দেশজুড়ে ১৮ ঊর্ধ্ব সকলকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। সে জন্য মোট উৎপন্ন টিকার ৭৫ শতাংশ কেন্দ্র কিনে নেবে বলে জানানো হয়। বাকি ২৫ শতাংশ কিনবে বেসরকারি হাসপাতাল। কিন্তু তার পরেও তারা পর্যাপ্ত জোগান দিতে পারেনি টিকার।
পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৯৩ জনের টিকাকরণ (vaccination) হয়েছে। যা রাজ্যের মোট ভোটদাতার ২৫.২ শতাংশ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই টিকার জোগান নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকায় সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র টিকার জোগানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মানছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কেন্দ্র কেন ২৫ শতাংশ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে। কেন সেই অধিকার রাজ্যগুলিকে দেওয়া হবে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত সামগ্রীতে জিএসটি বসানোরও বিরোধিতা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাজ্যে নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন ২,১৮৪। মারা গিয়েছেন ৫৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top