এসটিএফের এনকাউন্টারে নিউ টাউনের আবাসনে খতম পাঞ্জাবের দুই দুষ্কৃতী

Gangsters-encountered.jpg

ঘটনাস্থলে পুলিশ। (ইনসেটে) নিহত দুই দুষ্কৃতী

Onlooker desk: একাধিক মামলায় ‘ওয়ান্টেড’ পাঞ্জাবের দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে এনকাউন্টারে খতম করল পশ্চিমবঙ্গের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গুলিতে এক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। তাঁর নাম কার্তিক মোহন ঘোষ। নিউ টাউনের শাপুরজির কেতাদুরস্ত আবাসনে দু’জন দুষ্কৃতী গা-ঢাকা দিয়েছিল বলে খবর।
সূত্র মারফত খবর পেয়ে আজ, বুধবার দুপুর ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ সেখানে অভিযান চালায় এসটিএফ। আগেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। আবাসনের পাঁচতলায় দু’জন রয়েছে বলে খবর ছিল তদন্তকারীদের কাছে। ঠিক হয়, উপর ও নীচ, দু’দিক থেকে চাপ দিয়ে ধরা হবে তাদের। সেই মতো দু’টি দলে ভাগ হয়ে যায় এসটিএফের দল । আবাসনের নীচে পুলিশ দেখে দুই দুষ্কৃতী গুলি ছুড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশের দল। অন্য একটি দল সেই ফাঁকে উপরে উঠে যায়। সেই দলটির উপরেও হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।
সূত্রের খবর, দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে ৪০টির বেশি মামলা রয়েছে। একজনের নামে ১০ লক্ষ এবং অন্য জনের নামে ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পাঞ্জাব সরকার।
দুই দুষ্কৃতীর মধ্যে একজন মাসকয়েক আগে লুধিয়ানায় এক পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জয়পাল সিং ভুল্লার। অন্য জনের নাম জসপ্রীত জস্সি। আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরণ পাচারের সঙ্গে তারা যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। নিউ টাউনের একটি বিসালবহুল আবাসনে লুকিয়ে ছিল তারা। দুষ্কৃতীদের সঙ্গীরা আশপাশে লুকিয়ে থাকতে পারে বা এনকাউন্টারের পর পালাতে পারে, এই আশঙ্কায় এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আশপাশের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
বিহার থেকে আমদানি করা ৯ এমএম পিস্তল এবং বিস্ফোরক পাচারের সময় গত রবিবার বীরভূমের সিউড়ি থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করে পাঞ্জাবের এই দুই গ্যাংস্টারের হদিস পায় এসটিএফ। তারপর থেকেই পরিকল্পনা চলছিল এসটিএফের।
এনকাউন্টারের পরে ওই আবাসনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। এর মধ্যে তারা কোথায় গিয়েছিল, তাদের কাছে কেউ এসেছিল কি না, দু’জন ইতিমধ্যে কী কী করেছে, দেখা হচ্ছে সে সব।
এসটিএফ অফিসার কার্তিক মোহন ঘোষের কাঁধে গুলি লাগে। সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top