আলাপনের বদলি নিয়ে সরব কংগ্রেসও, পাল্টা ‘অপমান’ তত্ত্ব শুভেন্দুর

mamata-alapan-modi.jpg

Onlooker desk: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে ডেকে পাঠানোর কড়া সমালোচনা করল কংগ্রেস। এ ভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে আক্রমণ করেছে তারা।
আজ, শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাপনকে বদলির কেন্দ্রীয় চিঠি প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছি। বাংলার স্বার্থই আমার সব সময়ের প্রাধান্য। সে জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর পা ধরতেও রাজি আছি। কিন্তু এভাবে অসম্মান করবেন না। আমার আমলাদের অসম্মান করছেন। এ আমি মেনে নেব না। আলাপন বাঙালি বলেই কি এত রাগ?’ তিনি জানান, ৩১ মে আলাপনের কার্যকাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তাঁর এক্সটেনশনের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই মতো তিন মাসের এক্সটেনশনও দেয় কেন্দ্র। তারপরে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিংয়ে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। তাই নিয়ে তৃণমূল তো সরব বটেই। মুখ খুলেছে কংগ্রেসও।
এই গোটা বিষয়টি ঘটেছে কলাইকুন্ডায় কাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে মমতা যোগ না দেওয়ায়। বৈঠকের আগে মোদীর সঙ্গে দেখা করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জেরে রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট মোদীর হাতে ধরিয়ে দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকের পথ ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ভাবে মোদীকে অসম্মান করা হয়েছে বলে আক্রমণ শানিয়ে ময়দানে নেমে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে নেতা অমিত মালব্য। রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও টুইটে মমতাকে বিঁধতে ছাড়েননি বরাবরের মতো।
এ প্রসঙ্গে মমতা শনিবার বলেন, ‘প্রথমে কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হবে। পরে শুনলাম রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিরোধী দলনেতা (শুভেন্দু অধিকারী), সকলকে ডাকা হয়েছে। উল্টোদিকে আমি একা। এত রাজ্যে তো মোদী যাচ্ছেন। ওঁর নিজের রাজ্য গুজরাটে বিরোধী নেতাদের ডাকা হয়নি, ওডিশাতেও তাই। তা হলে বাংলার ক্ষেত্রে অন্য পথ কেন?’ প্রসঙ্গত, আজ সকাল থেকে এ প্রশ্নে বিজেপি নেতাদের একাংশও সরব হন।
ওই বৈঠকে বসার ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘বলা হচ্ছে মোদীকে অসম্মান করেছি। আপনারা জানেন, আমি আর মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কতক্ষণ দাঁড়িয়ে মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি? উনি তখন বসে ছিলেন। করোনার মধ্যে একটা ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা ব্যস্ত। তবু প্রধানমন্ত্রী এসেছেন বলে প্রোটোকল মেনে কলাইকুন্ডায় গিয়ে ওঁর সঙ্গে দেখা করি। আমাদের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রও উপস্থিত ছিলেন। আর আমি মোদীর অনুমতি নিয়েই সেখান থেকে বেরিয়ে দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে যাই। তারপরে এত কথা কীসের?’
আলাপনের বদলি প্রত্যাহার করার আবেদনের পাশাপাশি মমতা একে ‘একতরফা’ বলেও বিঁধেছেন।
শনিবার জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা টুইটারে লেখেন — পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে দিল্লি তলবের ঘটনা মোদী সরকারের খারাপ সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর প্রাণঘাতী আঘাত। গণতন্ত্রের উপর কেন্দ্রের এই মারাত্মক আক্রমণ দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে।
টুইটের সঙ্গে বিবৃতিও প্রকাশ করেছেন রণদীপ। সেখানে নারদ-কাণ্ডে চার নেতা-মন্ত্রীর গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি কী কী ভাবে নানা সময়ে তাঁকে হেনস্থার চেষ্টা করেছে, একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরে তা বোঝানোর চেষ্টা করেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘নির্বাচনে জেতার জন্য কী করেনি! কিন্তু জনগণের আশীর্বাদে শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি। এটা মেনে নিতেই কি সমস্যা হচ্ছে? রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ সব করা হচ্ছে?’
এর খানিকক্ষণ বাদে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা ইচ্ছাকৃত শুক্রবারের বৈঠক এড়িয়েছেন। এ ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে যে অপমান করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানানো ভাষা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top