বাংলা নিজের মেয়েকে চায়লেও নন্দীগ্রামে পরাজিত মমতা

BFE20AE3-1CDE-4360-9F27-488DF5560317.jpeg

Onlooker desk: বাংলা সত্যিই চাইল নিজের মেয়েকে। কিন্তু কাঁটা হয়ে রইল নন্দীগ্রাম।
রাজ্যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য পেল তৃণমূল। কিন্তু নন্দীগ্রামে পরাজিত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এককালের সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারালেন তৃণমূলনেত্রী। হাই ভোল্টেজ নির্বাচনী যুদ্ধের সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্র ছিল এই নন্দীগ্রাম। গত বছরের শেষে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তার পর থেকেই ক্রমাগত মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। আর মমতা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নন্দীগ্রামে নিজে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে নিজেকে ‘ভূমিপুত্র’ হিসাবে তুলে ধরে লড়াই নেমেছিলেন শুভেন্দু। মমতা তাঁর বরাবরের ভবানীপুর আসন ছেড়ে নন্দীগ্রামে লড়তে যাওয়ায় তা নিয়ে কটাক্ষ করে গোটা বিজেপি শিবির।
আবার এই নন্দীগ্রামে সভা করতে গিয়েই পায়ে চোট পেয়েছিলেন মমতা। প্লাস্টার করা হয় তাঁর বাঁ পায়ে। সেই অবস্থাতেই হুইল চেয়ারে চড়ে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালান তিনি। মমতাকে কখনও ‘বেগম’, কখনও ‘মাননীয়া’ বলে লাগাতার কটাক্ষ করে যান শুভেন্দু। এক সময়ে বলেন, ৫০ হাজার ভোটে মমতাকে হারাতে না-পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। কখনও অভিযোগ করেন, তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করার জন্য নন্দীগ্রামে লড়তে নেমেছেন মমতা।
দ্বিতীয় দফায় ভোট ছিল নন্দীগ্রামে। ভোটের দিন বুথে হাজির হয়ে অনিয়মের অভিযোগ জানান মমতা। নির্বাচন কমিশনে চিঠি লেখেন। পরে উল্টে তাঁর ভূমিকা নিয়েই তীব্র বিরোধিতা করে কমিশন। যদিও জয়ের বিষয়ে আগাগোড়াই আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন মমতা। কিন্তু রবিবার ভোট গণনার শুরু থেকেই ছিল তীব্র দোলাচল। দিনটা শুরু হয়েছিল শুভেন্দুর এগিয়ে থাকা দিয়ে। তারপরে সময় যত গড়িয়েছে ততই একবার মমতা, একবার শুভেন্দুর দিকে হেলতে থাকে পাল্লা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব দোলাচলে ইতি টেনে আসনটি জিতে নেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশন ঘোষণার আগে অবশ্য মমতা জয়ী হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, মমতা নয়, শুভেন্দুই জয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top