নারদ মামলায় স্বস্তি মমতার, হাইকোর্টকে হলফনামা জমা নিতে বলল সর্বোচ্চ আদালত

mamata-banerjee.jpg

Onlooker desk: সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নারদ মামলায় মমতা-সহ অন্যদের হলফনামা নিতে অস্বীকার করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন জানাতে হবে হাইকোর্টে। মমতার পাশাপাশি রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককেও এক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনিও হলফনামা জমা করতে চেয়েছিলেন।
হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ২৯ জুন। সে দিন নতুন আবেদন ও হলফনামা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টকে।
নারদ মামলার (Narada Case) শুনানি থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন দুই বাঙালি বিচারপতি। বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু ও বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত অন্য একটি মামলা থেকেও অব্যাহতি চেয়েছিলেন বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়।
নারদ মামলাটি বিচারপতি বিনীত শরণের এজলাসে পাঠানো হয়। আজ, শুক্রবার তার শুনানি ছিল। বিচারপতি শরণ আগে বলেছিলেন, ‘এই মামলাটি নতুন। আমরা এখনও ফাইল পড়িনি। তাই শুক্রবার শুনানি করা হোক।’
গত ৯ জুন মমতা ও মলয়ের হলফনামা নিতে অস্বীকার করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। ওই বেঞ্চের মাথায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল।
হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, মমতা ও মলয় সময়মতো হলফনামা দাখিল করেননি। তাঁদের খেয়াল-খুশিমতো হলফনামা জমা নেওয়া যাবে না। মলয় ও রাজ্য সরকারের তরফের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী এবং বিকাশ সিং জানিয়েছিলেন, হলফনামা অন রেকর্ড থাকতে হবে। কারণ তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।
গত ১৭ মে নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ধরে সিবিআই। মমতা খানিকক্ষণের মধ্যেই সিবিআই দপ্তরে পৌঁছে যান। ছ’ঘণ্টা বসে থাকেন অফিসে। তাঁর ও মলয়ের ভূমিকা নিয়ে সিবিআই প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যজুড়ে সেদিন ব্যাপক গোলমাল হয়।
উন্মত্ত জনতার প্রতিবাদের উল্লেখ করেছে সিবিআই। সেই সূত্রে মামলা অন্যত্র সরানোর আবেদনও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
নারদ কাণ্ডের সূত্রপাত ২০১৪-য়। একটি স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে। এক সাংবাদিক ব্যবসায়ী সেজে মূলত তৃণমূলের নেতাদের কাছে যান। রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চান বলে জানান। তৃণমূলের সাত সাংসদ, একজন বিধায়ক এবং এক পুলিশকর্তাকে ঘুষ দিতে দেখা যায় তাঁকে। ২-১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সেই ভিডিয়ো ছাড়া হয় বাজারে। যার জেরে শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top