কলাইকুন্ডার বৈঠকেই কি বদলি? আলাপনকে ছাড়া হবে না, মোদীকে চিঠি ‘স্তম্ভিত’ মমতার

mamata-alapan-modi.jpg

Onlooker desk: মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য সরকার রিলিজ দিচ্ছে না বলে পাঁচ পাতার দীর্ঘ চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও আলোচনা ছাড়া যে রকম ‘একতরফা ভাবে’ আলাপনকে দিল্লিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে তাতে তিনি ‘স্তম্ভিত’ বলে জানিয়েছেন মমতা। আজ, সোমবার সকালের চিঠিতে মমতা সরাসরিই প্রশ্ন তুলেছেন, চার দিন আগে যে মুখ্যসচিবকে কেন্দ্র এক্সটেনশন দিয়েছিল, আচমকা তাঁকে দিল্লি তলব করার পিছনে কি গত শুক্রবারের কলাইকুন্ডার মিটিং-ইস্যু দায়ী? এবং সেখানে ঠিক কী হয়েছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যার পাশাপাশি নাম না করে ‘স্থানীয় বিধায়কে’র (শুভেন্দু অধিকারী) উপস্থিতি নিয়ে নিজের আপত্তির কথা বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন। আপত্তি যে ব্যক্তিগত নয়, একেবারেই প্রশাসনিক, অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে সে কথাও জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন, রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে গত ৪০ বছর ধরে যে অভিজ্ঞতা তিনি সঞ্জয় করেছেন, তাতে ‘স্থানীয় বিধায়কে’র ওই বৈঠকে থাকার যৌক্তিকতা তিনি বোঝেননি। রাজ্যপালের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তা নিয়ে মমতার আপত্তি নেই। কিন্তু এমন একটি বৈঠকে ‘স্থানীয় বিধায়ক’ কী করবেন, সেটা তাঁর বোধগম্য হয়নি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কড়া চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, একতরফা ভাবে আলাপনকে তলব করায় দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করা হয়েছে। চারদিন আগে যে আমলাকে কেন্দ্র এক্সটেনশন দিল, চারদিন পরে তাঁরই কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন নিয়ে বারবার বিস্ময় প্রকাশ করেন মমতা। আলাপনের বদলির নির্দেশ ‘আইনি ভাবে অসম্মত, ঐতিহাসিক ভাবে নজিরবিহীন এবং পুরোপুরি অসাংবিধানিক’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ, সোমবার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আলাপনের। কোভিড পরিস্থিতিতে তাঁর মেয়াদবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য। তাতে সাড়া দিয়ে কেন্দ্র এক্সটেনশন দেয়। এবং এ জন্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা। কিন্তু তারপরে পাল্টি খেয়ে আলাপনকে কেন্দ্র ডেকে নেওয়ায় ‘বিস্মিত, স্তম্ভিত’ মমতা জানিয়েছেন, কলাইকুন্ডার বৈঠকের সঙ্গে এর যোগ থাকলে তা হবে ‘দুঃখজনক’। আজ সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে যাওযার কথা থাকলেও আলাপন তা করেননি।
চিঠিতে মমতা জানান, কোভিড এবং ইয়াস বিধ্বস্ত রাজ্যে তাঁর নিজস্ব কিছু কর্মসূচি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আসার কথা জেনে সূচিতে বদল ঘটিয়ে সময় বের করে কলাইকুন্ডায় যান তিনি ও মুখ্যসচিব। প্রধানমন্ত্রীর উড়ানের জন্য যে তাঁকে কিছুক্ষণ আটকে পড়তে হয়, সে কথাও উল্লেখ করেছেন মমতা।
সবশেষে আশা প্রকাশ করেছেন, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে গুরুত্ব দিয়ে এবং এ রাজ্যের মানুষের দুঃখকষ্ট আরও না বাড়িয়ে একজন অভিজ্ঞ অফিসারকে তলব করার নির্দেশ থেকে কেন্দ্র সরে আসবে। সেখানেও জানিয়েছেন, কলাইকুন্ডায় মোদীর সঙ্গে তাঁর দেখা করতে যাওয়া এই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে গুরুত্ব দিয়েই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top