দিনভর উত্তপ্ত রাজ্য, মমতাকে আইন মানতে অনুরোধ রাজ্যপালের

KOLKATA.jpg

বিক্ষোভের জেরে দিনভর উত্তপ্ত রইল কলকাতা

কলকাতা: পৌঁছেছিলেন সকাল পৌনে ১১টায়। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার নিজাম প্যালেস ছাড়লেন বিকেল পৌনে পাঁচটায়। সেখান থেকে নবান্নে পৌঁছন তিনি। ইতিমধ্যে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্রদের গ্রেপ্তারির জেরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। করোনার আবহে যাবতীয় বিধি উড়িয়ে সকাল থেকে নিজাম প্যালেসের সামনে, রাজভবনের গেটে বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কর্মীরা। জ্বালানো হয় টায়ার।
বিকেল চারটের একটু আগে ব্যাঙ্কশাল আদালতের শুনানিতে হাজির হন রাজ্যের মোট ছ’জন মন্ত্রী। ‘প্রভাবশালী’ তকমা দিয়ে ফিরহাদ, সুব্রত, মদন ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের বিরোধিতা করে সিবিআই। সাড়ে চারটে নাগাদ শেষ হয় ভার্চুয়াল শুনানি। অনলাইনেই চার্জশিট পেস করে সিবিআই।
নারদ মামলায় মন্ত্রী ফিরহাদ, সুব্রত এবং বিধায়ক মদনকে সোমবার সকালে নিজাম প্যালেসের দপ্তরে নিয়ে যায় সিবিআই। ডাকা হয় তৃণমূল ও পরে বিজেপিও ত্যাগ করা নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। অথচ ওই ভিডিয়োয় শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়ের যোগ থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। একে করোনার ভয়াবহ অবস্থা, তার মধ্যে এ ভাবে বেছে বেছে তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তৃণমূল তো বটেই কংগ্রেস, সিপিএমও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অতিমারী পরিস্থিতিতে এ ভাবে নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট। কেন্দ্র নিজেদের ব্যর্থতা চাপা দিতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে সরব হয়েছেন। বাংলার জনগণের রায়কে অস্বীকার করে হস্তক্ষেপের চেষ্টা, করোনা বিধ্বস্ত বাংলায় বিজেপির ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা এবং বিজেপি নেতার মতো আচরণকারী রাজ্যপালের ফিরে যাওয়ার দাবিতে কাল, মঙ্গলবার প্রতিবাদ দিবস পালনের ডাক দিয়েছে সিপিআইএমএল লিবারেশন।
এর মধ্যে আসরে নেমে পড়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যজুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশকে তিনি যেমন নিশানা করেছেন, তেমনই মুখ্যমন্ত্রীকে আইন মেনে চলতে অনুরোধ জানান। একের পর এক টুইটে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে থাকেন তিনি। এ সবের ফাঁকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে সকলকে সংযত ও সুশৃঙ্খল আচরণ করার আবেদন জানান। পূর্ব নির্ধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠক বাতিল হয়ে আগামী সোমবার হবে বলে স্থির হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top