‘আঁচলের তলে ঠাঁই দিন’, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা সোনালীর

SONALI-GUHA.jpg

Onlooker desk: তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সোনালী গুহ। শনিবার টুইট করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। এমনকী ক্ষমা না করলে তিনি প্রাণে বাঁচবেন না বলেও জানিয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে দিদি সম্বোধন করে আঁচলের স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সাতগাছিয়ার প্রাক্তন এই বিধায়ক। এখন তৃণমূল নেত্রী অতীতের সব ঘটনা ভুলে তাঁকে দলে ফেরান কি না, সেটাই দেখার। যদিও তৃণমূলের একাংশের মতে, এ বার ভোটের আগে আসল ‘গদ্দারদের’ চেনা গিয়েছে। তাঁদের ছাড়াই দল ভালো ফলও করেছে। এখন ‘গদ্দারদের’ দলে ফেরালে ভাবমূর্তি নষ্টই হবে।
এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন সোনালী। দল তাঁকে বিধায়ক করার পাশাপাশি তিনিই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম ডেপুটি স্পিকার। তবে এ বার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। তাঁর পরিবর্তে সাতগাছিয়া আসনে মোহনচন্দ্র নস্করকে প্রার্থী করে তৃণমূল। সে কথা জানার পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সোনালী। এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনও দিন দিদিকে ছাড়িনি। কিন্তু দিদি আমাকে ছাড়িয়ে দিল। ভগবান ওঁকে সুবুদ্ধি দিক।’
টিকিট না পাওয়ার পরেই বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এবং শেষমেশ ৫ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও তার আগে পর্যন্ত টুইটে বিজেপিকে নিয়ে একাধিক তোপ দেগেছিলেন। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হতে চান না। বিজেপিতে একটা সম্মানজনক পদ চান। আর বিজেপির হয়ে প্রচার করতে চান।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সমর্থন নিয়ে রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার পর থেকেই বিজেপির অন্দরে অনেকের গলায় বেসুর দেখা গিয়েছে। এ বার সেই তালিকায় নাম তুললেন সোনালী। টুইটে মমতাকে প্রিয় দিদি সম্বোধন করে সোনালী লিখেছেন, ‘সম্মানীয়া দিদি, আমার প্রণাম নেবেন। আমি সোনালী গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম অভিমানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়েছিলাম। যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত, কিন্তু নিজেকে সেখানে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনি আমিও আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দিন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top