রাজীবও কি ‘বেসুরো’, ফেসবুক পোস্টের পাল্টা টুইটে কটাক্ষ সৌমিত্রর

Polish_20210609_014118449.jpg

কলকাতা: ‘সমালোচনা তো অনেক হল। মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালো ভাবে নেবে না। আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ইয়াস-এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।’— সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে এলেন বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কি পুরোনো দল তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন জোমজুরের প্রাক্তন বিধায়ক, এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে। এ নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতারা সে ভাবে মুখ না খুললেও টুইটে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
এমনিতে বিধানসভা নির্বাচনের পর দলবদলু নেতাদের অনেকেই এক এক করে বেসুরো হতে শুরু করেছেন। অনেকেই ক্ষমা চেয়ে তৃণমূলে ফেরার আর্জি জানিয়েছেন। তবে ভোটের আগে দলবদলুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুই নাম হল শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়েছেন শুভেন্দু। কিন্তু রাজীব জিততে পারেননি। অবশ্য দল বদলের সময়েও রাজীবের সঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর ছবি ছিল। এবং মুখে বলেছিলেন, ‘যেখানেই যাই, দিদি আমার হৃদয়ে থাকবেন।’ অনেকের মতে, ওই কথা বলে ফেরার পথ খোলা রেখেই দল ছেড়েছিলেন রাজীব। এর মধ্যে এদিনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সেই জল্পনাই উস্কে দিয়েছেন এই নেতা।
এমনিতে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভন্ন জায়গায় বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ সামনে এসেছে। দলের মধ্যেই ক্ষোভের মুখে পড়েছেন খোদ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এর মধ্যে ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতারাও একে একে বেসুরো হওয়ায় কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে কয়েক দিন আগে ক্ষমা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আঁচলের তলায় জায়গা পাওয়ার আর্জি নিয়ে টুইট করেন সোনালী গুহ। পরবর্তীতে সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার তথা বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস থেকে শুরু করে সরলা মুর্মু, অমল আচার্যরা। এর মধ্যে রাজীবের পোস্ট ঘিরে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। যদিও এ নিয়ে রাজ্য বিজেপির নেতারা সে ভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে রাজীবের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন।
তবে এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। টুইটে নাম না করে তিনি লিখেছেন, ’৪২ হাজার ভোটে হারার পর মনে পড়ল? বিজেপির ৪২ জনের বেশি কর্মী মারা গিয়েছে, তখন চুপ থাকা মানে শাসকদলকে সমর্থন করা। মোদী সরকার করোনার জন্য ফ্রি-তে প্রতিষেধক, অক্সিজেন-সহ সব রকম সাহায্য করছে। আর ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের জন্য মোদীজি নিজে এসেছেন। ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যেকে।’ পাশাপাশি আরএকটি টুইটে লিখেছেন, ‘আরও যা যা ক্ষতি হয়েছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করবে। আমরা বিরোধী দল, আমরা সরকারের গঠনমূলক কাজে সাহায্য করব। ভুল হলে পথে নামব। আপনি নীরব না থেকে বিজেপি কর্মীদের পাশে থাকলে ভালো হয়। না হলে গাড়ির পিছনে যে ছবিটা আছে, সেটা আবার সামনের সিটে নিয়ে আসুন।’ রাজীবের ফেসবুক পোস্টের পর বিষ্ণুপুরের সাংসদের পাল্টা এই টুইট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিজেপির রাজ্য নেতারা অবশ্য এটা একান্তই সৌমিত্র নিজের মতামত বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top