সরকারকে বদনাম করতে বিজেপি-ঘনিষ্ঠদের নিয়ে এনএইচআরসি-র কমিটি: হাইকোর্টে জানাল রাজ্য

WhatsApp-Image-2021-07-02-at-5.32.20-PM.jpeg

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসায় (post poll violence) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এ নিয়ে আজ, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে কড়া ভাষায় বিশাল হলফনামা (affidavit) পেশ করল প্রশাসন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (West Bengal) সরকারের তরফে হলফনামা পেশ করেন স্বরাষ্ট্র সচিব বিপি গোপালিকা। সেখানে জানানো হয়, শাসকের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থেকে ভুলে ভরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) এই রিপোর্ট। যে কমিটি এই রিপোর্ট দিয়েছে, তার সদস্যদের হয় বিজেপি, নাহয় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে বলে হলফনামায় দাবি করা হয়।
ভোট পরবর্তী হিংসার (post poll violence) তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) কমিটি গঠিত হয়। সেখানে বিজেপি নেতা আতিফ রাশিদকে রাখা হয়। যিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিরোধী বলেই পরিচিত। তিনি যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক রিপোর্ট দেবেন, সেটা আঁচ করা কঠিন নয়।
হলফনামায় (affidavit) সরকার জানিয়েছে — কমিটির একাধিক সদস্য বিজেপির মেম্বার। না হলে তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। তাই তাঁদের তদন্ত ও তার রিপোর্ট কতখানি নিরপেক্ষ হবে, সে ব্যাপারে সংশয় রয়েছেই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) ওই রিপোর্টে আদালত যাতে বিশ্বাস না করে, সে আবেদনও জানিয়েছে রাজ্য। ওই রিপোর্টের জেরে পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক সদস্যের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার সমূগ আশঙ্কা রয়েছে বলেও সরকারি হলফনামায় (affidavit) জানানো হয়েছে।
এমনকী, ১৯৯৩-এর মানবাধিকার সুরক্ষা আইনকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই মানেনি বলে সরকারি হলফনামায় দাবি। কারণ ভোট পরবর্তী হিংসা (Post Poll Violence) নিয়ে এনএইচআরসি-র রিপোর্টে একাধিক জন-প্রতিনিধি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে। অথচ তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়নি। প্রসঙ্গত, ওই রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) এক মন্ত্রী ও একাধিক বিধায়ককে সরাসরি অপরাধী, দুষ্কৃতী বা গুন্ডা বলা হয়েছে। অথচ এমন সিদ্ধান্তে তারা কেন উপনীত হল, সে ব্যাপারে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে হলফনামায় (affidavit) জানানো হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য — এই পরিস্থিতিতে, ওই রিপোর্ট গ্রহণ না-করার জন্য মাননীয় আদালতের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।
গত মাসে কারণ ভোট পরবর্তী হিংসা (Post Poll Violence) নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানি করে হাইকোর্ট। তখনই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সনকে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কমিটি গড়ার কথা বলেন বিচারপতি। কিন্তু রাজ্য সরকারের দাবি, এই নির্দেশের অপব্যবহার করেছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করবেন, ইচ্ছাকৃত ভাবে তেমন সদস্যদেরই কমিটিতে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
হলফনামায় (afidavit) সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ভারতের মতো মহান দেশে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হচ্ছে।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top