আবার বিজেপির জয়ধ্বজা উড়িয়ে বিতর্ক বাধালেন মুকুল

Mukul-Roy5.jpg

কলকাতা: ঠিক এক সপ্তাহ পর ফের! আবার মুকুল রায়ের (Mukul Roy) মুখে শোনা গেল বিজেপির জয়গান! গত ৬ অগস্টের পর শুক্রবার।
মুকুলের দাবি, তাঁর নিজের কেন্দ্র কৃষ্ণনগর উত্তরে উপ-নির্বাচন হলে বিজেপিই জিতবে।
গত ৬ তারিখও উপ-নির্বাচন হলে বিজেপি জিতবে বলে বিতর্ক বাধিয়েছিলেন মুকুল (Mukul Roy)। দু’বারই অবশ্য নিজেকে দ্রুত সংশোধন করে নেন তিনি। জানান, তৃণমূল কংগ্রেস বলতে গিয়ে ভুল করে বিজেপি বলে ফেলেছেন। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, ২০২৩-এ ত্রিপুরার নির্বাচনেও ভালো ফল করবে তৃণমূল।
সরকারি ভাবে এখনও কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল। কিন্তু নির্বাচনের মাসখানেক বাদে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান করেছে।
শুক্রবার বিধানসভায় পিএসি-র একটি বৈঠক ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুকুল (Mukul Roy) বলেন, ‘কৃষ্ণনগর উত্তরে উপ-নির্বাচন হলে বিজেপি-ই জিতবে।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূল জিততে পারবে না? তখন তিনি জানান, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বাসিন্দাদের। তাঁর সরকারি ‘স্টেটাস’ জানাতে গিয়েও মুকুল বলেন, ‘আমি বিজেপির বিধায়ক।’
এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চিফ হুইপ তাপস রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। তবে তাপস কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কারণ হিসাবে জানান, মুকুল যখন ওই মন্তব্য করেন, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
আর বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, মানুষই এ ধরনের মন্তব্যের বিচার করবেন। বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মুকুল (Mukul Roy) যখন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গেলেন, তখন বহু মানুষ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এখন যদি তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন, তা হলে তার বিচারও মানুষই করবেন। ওঁকে হাই সিকিউরিটি দেওয়া হয়েছে, পিএসি-র চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তৃণমূলও দেখুক বিষয়টা।’
বিজেপি এমনিতেই মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব। তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন আনার পক্ষপাতী তারা। পিএসি চেয়ারম্যানের পোস্ট থেকেও তাঁকে সরানোর দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। এই পদটি সাধারণত বিরোধী দলকেই দেওয়া হয়।
এর প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, মুকুল তো এখনও বিজেপিরই বিধায়ক। কাজেই তাঁকে নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এ দিকে বিজেপির জয়গান গাওয়ার পর মুকুল নিজের ‘ভুল’ শুধরে নেন। জানান, তৃণমূল বলতে গিয়েই বিজেপি বলে ফেলেছেন। জানান, পার্টির নেতৃত্ব যদি তাঁকে ত্রিপুরায় যাওয়ার নির্দেশ দেন, তা হলে তিনি যাবেন। প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর কথায়, ‘দল যা নির্দেশ দেবে, তা-ই করব। ত্রিপুরায় বিজেপি ঠিক কাজ করছে না। আমাদের দল ত্রিপুরার পরবর্তী নির্বাচনে ভালো ফল করবে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top