পুরোনো অফিসের পুরোনো ঘরে মুকুল, ‘পালস’ বুঝে মমতা এরপর কোন পথে?

mukul-and-mamata.jpg

Onlooker desk: নভেম্বর ২০১৭ থেকে জুন ২০২১। সাড়ে তিন বছর সময় পেরিয়ে ফের তৃণমূল ভবনে মুকুল রায় (Mukul Roy)। পুত্র শুভ্রাংশুকে নিয়ে একটু আগে পৌঁছেছেন নিজের পুরোনো দলের অফিসে। সূত্রের খবর, নিজের পুরোনো ঘরেই বসেছেন তিনি। মমতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছেন। পৌঁছেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের আরও নেতা তৃণমূল ভবনে আছেন বলে খবর।
মুকুলের (Mukul Roy) দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল ক’দিন ধরেই। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ বৃত্তে তিনি বিজেপিতে ‘দমবন্ধ’ হয়ে আসার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই ‘সাফোকেশন’ দলের পরাজয়ের পরে আরও বেড়েছিল। বিচক্ষণ রাজনৈতিক মুকুল বিলক্ষণ এ কথাটা বুঝে যান যে বাংলার মাটিতে বিজেপির রাজনৈতিক চাল কাজ করবে না। পশ্চিমবঙ্গে ‘বহিরাগত’ই থাকবে তারা। এবং ঠিক এই ইস্যুতেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে লাগাতার প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার নেতাদের বদলে কোথায় নরেন্দ্র মোদী, কোথায় অমিত শাহ, কোথায় যোগী আদিত্যনাথ বা জেপি নাড্ডাদের এনে সভার আয়োজন রাজ্যের মানুষ যে ভালো ভাবে নিচ্ছে না, সেটা বুঝতে সময় লাগেনি মমতার। সে কারণে ‘বহিরাগত’ এনে বাংলায় প্রচার, তাঁদের অবাঙালি উচ্চারণে বাংলা বলা নিয়ে কটাক্ষ চালিয়ে গিয়েছেন মমতা। যোগ্য সঙ্গত করেছেন তাঁর ভাইপা, সাংসদ এবং বর্তমানে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ বৃত্তে মুকুল (Mukul Roy) এ কথাও বলেন যে বাংলার ‘পালস’ মমতার মতো কেউ বোঝেন না। তিনিও যে রাজনীতির ‘পালস’ কতখানি বোঝেন, বাংলার ভোটের ফলই তার প্রমাণ। অথচ বিজেপি তাঁকে সর্বভারতীয় পদ দিয়েছে। কৃষ্ণনগর উত্তরে বিধায়ক হিসাবে তিনি জিতেছেন। মাসদেড়েক আগে নিজেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করে তাঁরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা বানিয়েছেন। তারপরে ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে তৈরি করেছেন দূরত্ব।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর বনিবনার অভাব কারও অজানা নয়। সেই আগুনে সুচারু ভাবে হাওয়া লাগিয়ে সম্প্রতি দিলীপের বৈঠক এড়িয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মুকুল।
অন্যদিকে, সদ্য পরাজয়ের পর বিজেপির শিরদাঁড়া এখন নড়বড়ে। তার উপরে ভোটের আগে যে নেতারা লাইন বেঁধে বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁরাই ইউ টার্ন করে তৃণমূলের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছেন। তাঁদের ব্যাপারে আপাতত চুপ দলের নেতৃত্ব। কিন্তু সকলের মধ্যে সবার আগে দল বদল করা এবং সম্ভবত সবচেয়ে হেভিওয়েট মুকুলকে দলে ফেরানো হলে গেরুয়া শিবিরের কোমর যে আরও খানিকটা ভেঙে দেওয়া যাবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। লোহা গরম থাকতেই তাই ঘা দেওয়ার পথ নিয়েছে তৃণমূল।
তার উপরে অভিষেক-সহ দলের অনেক নেতাই বলে চলেছেন, দলবদলুরা তো বটেই, বিজেপিরও অনেক বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন। সম্প্রতি দিলীপকে না জানিয়ে দিল্লি গিয়ে মোদী-শাহ-নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক সেরে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কি এই পাল্টা স্রোতের প্রসঙ্গও উঠে থাকতে পারে বলে কারও কারও ধারণা। এখন দেখার, মুকুলকে দলে ফেরানো হলেও অন্য নেতাদের ক্ষেত্রে তৃণমূল কী অবস্থান নেয়। ভোটের আগে মমতা যাঁদের ‘গদ্দার’ বলেছিলেন, সেই ‘মীরজাফর’দের তৃণমূলে ফের জায়গা হয় কি না, সেটা দামি প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top