অনুগামীদের নিয়ে বৈঠকে মুকুল, মোদীর বৈঠক শেষে মুখে কুলুপ শুভেন্দুর, বিজেপিতে হচ্ছেটা কী!

SUBHENDU-MUKUL-RAJIB.jpg

কলকাতা: হেস্টিংসে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ডাকা বৈঠকে তিনি ছিলেন না। বলা হয়েছিল ,সম্প্রতি করোনামুক্ত হয়েছেন, তা ছাড়া স্ত্রী অসুস্থ। তাই দিলীপের বৈঠকে অনুপস্থিত মুকুল রায়।
কিন্তু তার পরদিনই দেখা গেল, অনুগামীদের নিয়ে সল্টলেকের বাড়িতে বৈঠকে বসলেন মুকুল। এমনিতে তৃণমূলে ফেরার ব্যাপারে কোনও কথা তিনি এখনও বলেননি। কিন্তু দিলীপের সঙ্গে তাঁর রসায়ন যে বিশেষ মধুর নয়, সে কথা সকলেরই কমবেশি জানা। তার উপরে তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া ঘিরে সম্প্রতি আরও একবার দুই নেতার কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। পুত্র শুভ্রাংশু ‘আত্মসমালোচনা’র তত্ত্ব সামনে এনে ফেসবুক পোস্ট করে নতুন বিতর্ক খুঁচিয়ে তুলেছেন সপ্তাহ তিনেক আগে।
এ বার মুকুলের এই অনুগামী নিয়ে বৈঠকে ঘাম জমেছে বিজেপি নেতৃত্বের কপালে। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তিনি তৃণমূলে ফিরবেন কি না, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বড় হয়ে। যদিও মুকুল এ সব নিয়ে মন্তব্য এড়িয়েই থাকছেন। কিন্তু বিজেপিতে যে হারে ‘বেসুরো’ গান শুরু হয়েছে, তাতে স্বস্তি পাচ্ছেন না গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তার উপরে তৃণমূল দাবি করছে, বিজেপির ৩৫ জন বিধায়ক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
সোনালি গুহ, সরলা মুর্মু, দীপেন্দু বিশ্বাসরা ইতিমধ্যেই জোড়াফুল শিবিরে ফিরতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি হাতে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে পর্যদুস্ত হওয়ার পরে কার্যত অন্তরালেই ছিলেন। মঙ্গলবার হঠাৎ ভেসে উঠেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীদের রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের দাবির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। বিপুল জয়ের নিদান নিয়ে যে সরকার এসেছে, তাকে সমর্থনের সুরও ধরেছেন রাজীব। শোনা যাচ্ছে, মুকুলের সঙ্গে এক দফা বৈঠক সেরেছেন তিনি।
এরই মধ্যে দিল্লি গিয়েছেন রাজ্যবিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রাজ্যে ‘ভয়ঙ্কর হিংসা’ চলছে বলে জানান। পরে অমিত শাহের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে ‘বাংলার জন্য আশীর্বাদ চাওয়া’র কথা লেখেন।
আজ, বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সারেন শুভেন্দু। বেরিয়ে কোনও কথাই বলতে চাননি। এমনকী, রাজীবের পোস্ট নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও এড়িয়ে যান উত্তর। সংক্ষেপে যা জানিয়েছেন, তার সারমর্ম হলো মোদীর সঙ্গে তাঁর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন ইত্যাদি প্রসঙ্গে কথা হয়েছে। পাশাপাশি দিলীপের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ কাজ করার কথা জানান শুভেন্দু। এরই মধ্যে আরও দুই তৃণমূলত্যাগী বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং এবং সৌমিত্র খাঁ দিল্লি গিয়েছেন ‘পর্যালোচনা’র জন্য।
এক সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে বিজেপিতে যোগ দিলেও ভোটে ভরাডুবির পরে এখন গেরুয়া শিবিরের নানা ‘খামতি’ চোখে পড়ছে দলবদলু নেতাদের। কখনও তাঁরা বলছেন, হিন্দুত্ব তাস খেলাকে বাংলার মানুষ ভালো ভাবে নেয়নি। কখনও বাইরের রাজ্য থেকে নেতাদের এনে প্রচারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে মত। দলবদলু এমনই এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তর উপলব্ধি, ‘যাঁরা ঠিক ভাবে বাংলাটা পর্যন্ত বলতে পারেন না, তাঁদের এনে প্রচার করা ছিল মস্ত বড় ভুল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top