অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকে মুকুল, কুণালের বাড়িতে রাজীব, যত কাণ্ড তৃণমূলে!

Polish_20210612_201345093.jpg

কলকাতা: পুরোনো দলে ফিরেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন মুকুল রায়। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ ছেড়ে তৃণমূলে এসেও এক দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
এ দিকে, তিনি দলে থাকায় বিশেষ কোনও লাভ হয়নি বলে প্রচারে ব্যস্ত বিজেপি। মুকুল আবার তৃণমূলে ফিরেই শুরু করেছেন কাজ। সূত্রের খবর, একাধিক বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ প্রসঙ্গে ওই বিধায়কদের কেউ অবশ্য প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে বিজেপি নেতৃত্বের কানে বিষয়টা পৌঁছেছে। সংবাদমাধ্যমে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ ব্যাপারে বলেন, ‘ওঁর অনেক পূর্ব পরিচিত আছেন। তাঁদের উনি ফোন করতেই পারেন। আয়ারাম-গয়ারামদের নিয়ে বিজেপি চলে না।’
শুক্রবার বিকেলে সপুত্র মুকুল তৃণমূলে ফেরেন। তৃণমূল ভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তাঁকে ও পুত্র শুভ্রাংশুকে উত্তরীয় পরিয়ে পুরোনো দলে স্বাগত জানান অভিষেক। পরে মমতা বলেন, ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল।’ মুকুলও বলেন, ‘বিজেপিতে থাকতে পারলাম না।’
মুকুলের দল বদলের পরে অবশ্য বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না-দেওয়ার পথ ধরেছিল বিজেপি। দিলীপ পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমি কী করব?’
এরই মধ্যে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। যদিও পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, দু’জনের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে তাঁদের।
তবে এতে জল্পনা কমেনি। গত ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর রাজীবকে সে ভাবে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার মধ্যে বিজেপির সমালোচনা করে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ায় বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঘিরে জল্পনা দেখা দেয়।
যদিও প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীবের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের জল্পনা দেখা দিতেই কড়া বার্তা দিয়েছেন সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসূন বলেন, ‘দলনেত্রীর কাছে আর্জি জানাব, ভোটের আগে হাওড়ার যাঁরা দল ছেড়েছিলেন, তাঁদের যেন না-পেরানো হয়।’
শুক্রবার মুকুলকে দলে স্বাগত জানানোর পর মমতা অবশ্য বলেছিলেন, ‘মুকুল ভোটের আগে তৃণমূলকে নিয়ে একটিও কথা বলেননি। কিন্তু কোনও গদ্দার, নিম্নরুচির মানুষকে দলে ফেরানো হবে না।’ এখন দেখার, রাজীব সেই ‘গদ্দার’দের তালিকায় রয়েছেন কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top