হেস্টিংসে দিলীপের বৈঠকে নেই মুকুল, দিল্লিতে শাহ-নাড্ডার সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাতে জল্পনা

Suvendu-Adhikari.jpg

কলকাতা: হেস্টিংসে দলীয় কার্যালয়ে রাজ্য নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেই বৈঠকে দেখা গেল না দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুকুল রায়কে। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রাও (যাঁরা তৃণমূল থেকে দল বদলে বিজেপিতে গিয়েছেন) অনুপস্থিত। এ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই দিল্লিতে অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেললেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলেয় মঙ্গলবারের দুই বৈঠক ঘিরে নানা জল্পনা, কানাঘুষো ভেসে বেড়াচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। আবার, পরিস্থিতি সামাল দিতেও নানা ব্যাখ্যা হাজির করা হচ্ছে।
দিলীপের হেস্টিংসের বৈঠকে মুকুলদের না-থাকা প্রসঙ্গে অনেকে বলছেন, তিনি বা রাজীব রাজ্য কমিটির সদস্য নন। তা ছাড়া মুকুলের স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। তিনি নিজেও সম্প্রতি কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন। এখানে প্রশ্ন দু’টি, প্রথমত সব্যসাচী রাজ্য কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অনুপস্থিত কেন। দ্বিতীয় রাজীব বিভিন্ন সময়ে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসাবে ডাক পেলেও মঙ্গলবারের বৈঠকে নেই কেন?
যদিও বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই রাজীবের দেখাসাক্ষাৎ বিশেষ পাওয়া যাচ্ছে না। আর মুকুলের অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া নিয়ে সম্প্রতি যে রাজনৈতিক আকচাআকচির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দিলীপ-মুকুল দ্বৈরথ আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করা হচ্চে। সেই সূত্রে মুকুল এবং তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুর তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। ‘বেসুরো’র দলে নাম লিখিয়ে শুভ্রাংশু সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মসমালোচনার কথা বলেন। যার জেরে জল্পনা আরও জোরালো হয়।
এরই পাশাপাশি দিলীপকে বাদ দিয়ে শুভেন্দুর দিল্লি-যাত্রা নতুন সমীকরণের পটভূমিকা তৈরি করেছে। আজ, মঙ্গলবার শাহ ও নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কাল, বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দেখা করার কথা নন্দীগ্রামের বিধায়কের।
আজ শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর একটি টুইট করেন শুভেন্দু। লেখেন — মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির সঙ্গে দেখা করলাম। অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলার জন্য ওঁর কাছে আশীর্বাদ নিয়েছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, তিন ছিলেনএবং ভবিষ্যতেও বাংলার পাশে থাকবেন। একসঙ্গে তোলা একটি ছবিও টুইট করেন তিনি।
শুভেন্দুকে নানা সময়ে দলী নেতৃত্ব গুরুত্ব দিয়েছেন। শাহের হাত থেকে পতাকা নিয়েই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি। সম্প্রতি কলাইকুন্ডায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়ে মোদীর রিভিউ বৈঠকে শুভেন্দুর উপস্থিতি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ওই বৈঠক এড়িয়েও যান তিনি। তা নিয়ে বিতর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। এ বার দিল্লিতে শুভেন্দুর সশরীর হাজিরার কারণ ঠিক কী, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top