শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বেসুরো সুনীল, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে জল্পনায় রূপা

Polish_20210616_020229403.jpg

বর্ধমান ও কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন সাংসদ সুনীল মণ্ডল। তারপরে প্রচারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেছেন। এমনকী হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বর্ধমান পূর্বের সাংসদ। বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভরাডুবির হয়েছে। তারপরে এখন বেসুর ধরেছেন সুনীল।
শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন সুনীল মণ্ডল (Sunil Mondal)। যে কারণে নিজের কেন্দ্রের তৃণমূলের নেতানেত্রীদের ফোন করছেন। তাঁকে ফেরাতে দলের কাছে সুপারিশ করার জন্য বলছেন। যদিও কেউই সুনীলকে দলে ফেরাতে আগ্রহী নন।
দলবদলু প্রসঙ্গে এমনিতেই চাপে বিজেপি। বেসুর ধরেছেন বহু নেতানেত্রী। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন সুনীল। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির একটিও মানেননি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ভোটের আগে অনেকে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন। তাঁদের বিজেপি সহ্য করতে পারে না। ভোটের প্রচারে প্রবাসী বিজেপি নেতারা বাংলায় আসেন। তাঁদের রাজনৈতিক জ্ঞান ছিল না বলে অভিযোগ সুনীলের।
আধঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল করেন সুনীল মণ্ডল। সাংবাদিকদের সামনে এ বার ক্ষোভ তথাগত রায়ের বক্তব্যে। জানান, শুভেন্দুকে (Suvendu Adhikari) নিয়ে তাঁর আর কিছু বলার নেই। তবে ৩৫৬ ধারা নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া তাঁ না-পসন্দ। মানুষের রায়কে সম্মান জানাতে চান সুনীল।
এ দিকে এর পরেই সরব তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। যেমন রায়না ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বামদেব মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘সুনীল মণ্ডল (Sunil Mondal) আসলে একজন রাজনীতির ব্যাপারী। ওঁর নীতি আদর্শ কিছু নেই।’ বিজেপিতে গিয়ে সুনীল তৃণমূলের বিরুদ্ধে যা বলেছেন, তা কেউ ভোলেনি। আর এখন দলে ফিরতে চাইছেন। এই জন্য তাঁকে ‘গদ্দার’ বলেন বামদেব। দল যাতে সুনীলকে না-ফেরায়, সে জন্যও আবেদন জানাবেন। মেমারির তৃণমূল নেতারাও সুনীলকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ।
জামালপুরের তৃণমূল বিধায়ক অলোক মাঝিও ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘সুনীল মণ্ডল নীতি-আদর্শহীন রাজনীতিক। ওঁর কোনও জনভিত্তি নেই। ওঁর নিজের এলাকাতেও বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। বিজেপি গো-হারা হরেছে। তাই এখন সুনীল মণ্ডল (Sunil Mondal) বেসুরো।’
একই সুর কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, ‘ভোটের সময়ে জনসভা থেকে সুনীল মণ্ডল হুঁশিয়ারি দেন। নিদান দিয়েছিলেন, ফল প্রকাশের আগেই আমাকে ঘিরে ফেলতে হবে। যাতে পালাতে না পারি। এখন সুনীল মণ্ডলই (Sunil Mondal) ভোল বদলাচ্ছেন!’
মুখ খুলেছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু। তিনি জানান, সুনীলের সাংসদ পদ খারিজের জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের সব কর্মী-সমর্থকই এটা চাইছেন। দেবু বলেন, ‘সুনীল মণ্ডলকে বলব, তৃণমূলে ফেরার স্বপ্ন ছেড়ে বিজেপিতেই থাকুন।’
জেলার বিজেপি নেতারা সুনীলের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চাননি। রাজ্য নেতৃত্বও বিশেষ আমল দেননি। বরং সুনীল (Sunil Mondal) কবে বিজেপি করলেন, সংবাদমাধ্যমে সে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ঘিরে জল্পনায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন — রাজনীতিকে গ্ল্যামারাইজ করে লাভ নেই। অনেক রক্ত ঝরলেও কেউ পাশে থাকে না।
ঘটনা হলো, রূপা এক সময়ে রাজ্য বিজেপির সামনের সারিতে ছিলেন। কিন্তু এ বারের নির্বাচনে দল তাঁকে বিশেষ কাজে লাগায়নি। গত কয়েক বছর রূপাকে সে ভাবে কোনও ইস্যুতে বলতেও দেওয়া হয়নি। সে কারণে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ জানিয়েছেন রূপা। তার জেরেই এমন পোস্ট বলে জল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top