লম্বা হচ্ছে প্রতারিতের তালিকা, সিরামকে চিঠি লিখে টিকা চাওয়ার দাবি দেবাঞ্জনের

Polish_20210625_231726545.jpg

কলকাতা: প্রতিদিনই সামনে আসছে দেবাঞ্জন দেবের নতুন নতুন কর্মকাণ্ড।
এ বার জানা গেল, সে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ায় একটি ই-মেল করেছিলে। কোভিড টিকা পেতেই এই ই-মেল বলে দাবি দেবাঞ্জনের। কিন্তু সেই দাবি সত্য কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পাশাপাশি, তার দ্বারা প্রতারিতের তালিকাও ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। দেবাঞ্জনের ভুয়ো সংস্থার এক কর্মী সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন। এমনকী, যে গৃহশিক্ষকের কাছে ওই যুবক স্নাতক স্তরে পড়তে যেত, তাকেও তখন ঠকিয়েছিল সে।
নিজেকে আইএএস অফিসার বলে পরিচয় দেওয়া থেকে গাড়িতে নীল বাতি লাগানো। পুরসভার নামে ভুয়ো ই-মেল আইডি খোলা। ভুয়ো সংস্থা খুলে রীতিমতো কর্মী নিয়োগ করে তা চালানো। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা — ক্রমশ লম্বা হচ্ছে দেবাঞ্জনের কীর্তিকলাপের তালিকা। তাতেই নবতম সংযোজন পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটে ই-মেল পাঠানো।
ভুয়ো টিকার সূত্রে তার অফিসের ১০ জন প্রাক্তন-বর্তমান কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট আরও অনেককে ডাকা হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, দোঞ্জন যদি সিরামকে ই-মেল করেও থাকে। তা হলেও কি সেই টিকা তাকে পাঠানো হয়েছিল? দেখা হচ্ছে তা-ও। জানা গিয়েছে, ওই যুবক এখনও পর্যন্ত দু’টি টিকা কেন্দ্র খুলেছিল। একটি কসবায়। অন্যটি আমহার্স্ট স্ট্রিটের সিটি কলেজে।
কসবার কেন্দ্রে যে টিকা দেওয়া হয়েছিল, তার নমুনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি। তবে কলকাতা পুরসভার তরফে অতীন ঘোষ সম্প্রতি জানান, অ্যামিক্যাসিন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল গ্রহীতাদের। বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে এই টিকা দেওয়া হয়। তার মধ্যে নিউমোনিয়া, মেনিঞ্জাইটিস, সেপসিস থেকে ইউটিআই — সবই আছে।
এ দিকে, পুরসভার নামে একটি ভুয়ো ই-মেল অ্যাকাউন্ট খুলেছিল দেবাঞ্জন। সেখানে নিজেকে পুরসভার ‘ম্যানেজার’ বলে উল্লেখ করে সে। সেই সঙ্গে চলত বিভিন্ন ভুক্তভোগীর হয়ে নানা সরকারি সংস্থাকে চিঠি পাঠানো। নিজেই তার উপরে ‘রিসিভড’ বলে সই করত। উত্তরও লিখত নিজে। এবং দাবি করত, তার চিঠির প্রেক্ষিতে মিলেছে উত্তর।
রাজ্য পুর, তথ্য ও সংস্কৃতি, পিডব্লিউডি, ইত্যাদি সরকারি সংস্থার প্রচুর স্ট্যাম্প পাওয়া গিয়েছে তার অফিসে। এ পর্যন্ত আটটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে। যার মধ্যে একটি তার সংস্থা মেসার্স ডব্লিউবিফিনকর্পের নামে।
তার এই সংস্থারই কর্মী সুস্মিতার দাবি, তাঁরা জানতেন না যে দেবাঞ্জন ভুয়ো আইএএস অফিসার। ঘটনাচক্রে এঁকেই পুরসভার ডেপুটি সেক্রেটারি বলে পরিচয় দিত দেবাঞ্জন। যদিও এই অভিযোগ সুস্মিতা স্বীকার করেননি। বারবারই দাবি করছেন, দেবাঞ্জনের দ্বারা তিনি প্রতারিত।
এই তালিকায় তাঁর তুতো ভাই, বোনের বান্ধবী থেকে শুরু করে মা-বাবা কেউ বাদ নেই। সকলকে নানা ভাবে ঠকিয়েছে এই কীর্তিমান।
স্নাতকে এক গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যেত সে। তিনি দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি অভিনয়েরও শখ রয়েছে তাঁর। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তাঁকে সিনেমায় সুযোগের টোপ দেয় দেবাঞ্জন। এ জন্য পাঁচ হাজার টাকা নেয়। অভিনয়ের সুযোগ যে মেলেনি, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top