ভ্যাকসিন নিয়ে জালিয়াতির শিকার সাংসদ মিমি চক্রবর্তী! গ্রেপ্তার ভুয়ো আইএএস

mimi-chakraborty1.jpg

টিকা নিচ্ছেন মিমি চক্রবর্তী। পরে উদ্ধার ভুয়ো আইএএস পরিচয় দেওয়া দেবাঞ্জন দেবের আইকার্ড

কলকাতা: এবার ভ্যাকসিন নিয়ে জালিয়াতির শিকার হলেন খোদ তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty)। এই ঘটনায় আইএএস পরিচয় দেওয়া দেবাঞ্জন দেব নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে কলকাতা পুলিশ।
মঙ্গলবার কসবার ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি টিকাকরণ শিবির চলছিল। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গে টিকা নেন মিমি। এমনিতে তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ আগে জানিয়েছিলেন, ‘আগে প্রবীণ বা যাঁদের বিশেষ প্রয়োজন, তাঁরা ভ্যাকসিন নিক। তার পর তিনি নেবেব।’ বর্তমানে টিকাকরণের পদ্ধতি অনেকটাই এগিয়েছে। তাই কসবার ওই শিবিরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গে টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন পুরসভার অনুমতি ছাড়াই চলছিল ওই শিবির। এর পরেই তড়িঘড়ি ময়দানে নামে কলকাতা পুলিশ। শিবিরে উপস্থিত ভুয়ো আইএএস পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ভাবে আঁটঘাট বেঁধে শিবিরটি চালানো হচ্ছিল তাতে চট করে কারও সন্দেহ হবে না। কারণ ক্যাম্পে কলকাতা পুরসভার লোগো লাগানো মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ছিল। ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়েছিল নীল বাতি লাগানো একটি গাড়ি। এবং উপস্থিত ছিলেন দেবাঞ্জন দেব নামে আইএএস পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিও। তাঁর কাছে আই কার্ডও রয়েছে। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, এমন আয়োজন দেখে সন্দেহ হয়নি সাংসদেরও। তিনিও সেখানে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেন।
পরে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই আসল চিত্র বেরিয়ে আসে। দেবাঞ্জন দেব নামে ওই ভুয়ো আইএএসকে আটক করে পুলিশ। রাতভর জেরা করা হয় তাঁকে। তা থেকেই জানা যায়, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে দেবাঞ্জনই ওই শিবিরের আয়োজন করেছিলেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে শিবিরে কলকাতা পুরসভার লোগো দেওয়া মাস্ক থাকায় এর সঙ্গে কোনও পুরকর্মীর যোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন পুর কর্তারাও। এর সঙ্গে কারও যোগ পাওয়া গেলে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমও।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বার বার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ। সেই মতো মহামারীর সময়ে ভ্যাকসিন ড্রাইভেও অংশ নেন। শুধু নিজের টিকাকরণ নয়, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ও রূপান্তরকামীদের জন্যও টিকার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু একদিনের মধ্যেই পুরো চিত্রটা পাল্টে গিয়েছে। আপাতত এর পিছনে কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top