নন্দীগ্রাম মামলায় ৫ লক্ষ জরিমানা মমতার, সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ

hearing-on-Nandigram-case-deferred-in-Calcutta-High-Court.jpg

Onlooker desk: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করল হাইকোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দ এই নির্দেশ দেন বুধবার। নন্দীগ্রাম মামলা থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিয়ে মামলা করেছেন মমতা। সেই মামলা ওঠে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে।
তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। সে কারণে তাঁর এজলাস থেকে মামলা সরানোর দাবি তোলা হয়। এই দাবিতে বিক্ষোভও দেখান আইনজীবীরা। এতে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে বলে তৃণমূল প্রশ্ন তোলে।
বুধবার মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে ক্ষোভ জানিয়ে গুচ্ছ পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি চন্দ। তাঁর বক্তব্য, মমতা একজন বিচারপতিকে বদনাম করতে পরিকল্পিত ভাবে এ কাজ করেছেন। নিজের সাংবিধানিক কর্তব্যে গাফিলতি করেছেন।
বিচারপতি চন্দ বলেন, ‘আবেদনকারীর কেস শোনার মতো ব্যক্তিগত কোনও আগ্রহ আমার নেই। মামলার শুনানিতে কোনও আপত্তিও নেই। প্রধান বিচারপতি যে মামলা দেবেন, তার শুনানি করা আমার সাংবিধানিক কর্তব্য। তবে আমি এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিচারপতির মতে, তিনি সরে না দাঁড়ালে যারা অশান্তি ভালোবাসে, তারা বিতর্ক জিইয়ে রাখবে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত আচরণের জন্য কোনও বিচারপতিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলা যায় না।
একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলে এজলাস সরানোর এই প্রক্রিয়ার কঠোর ভাবে সমালোচনা করা উচিত। দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলে জমা করতে হবে। করোনায় মৃত বিচারপতিদের পরিবারকে তা দেওয়া হবে বলে বিচারপতি চন্দ জানান।
বিচারপতি চন্দের সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে। তাই মামলায় পক্ষপাতিত্ব হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সে কারণে মামলাটি অন্য কোনও বিচারপতির এজলাসে সরানোর আবেদন জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গত ১৬ জুন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি চিঠি লেখেন মমতা। সেখানে এজলাস বদলের জন্য দুটি কারণ উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, বিচারপতি কৌশিক চন্দের সঙ্গে অতীতে বিজেপির যোগ ছিল। তাই অপর পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠার সঙ্গত কারণ রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন মমতা। কারণ তিনিও বিজেপির লোক।
তা ছাড়া, গত এপ্রিলে হাইকোর্টে বিচারপতি চন্দকে স্থায়ী করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন মমতা। তার প্রভাবও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল তাঁর।
চিঠিতে মমতা লেখেন, বিচার হলেই চলে না। সেই বিচার চোখে পড়াও জরুরি। বিচার ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা থাকাও প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top